ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে ২০টি অবৈধ জাল ধ্বংস, একজনকে জরিমানা জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ এটি সালিসের চেয়ে নিচে নেমে গেছে এমপির ছেলে নূরুজ্জামান আবারও দুই দিনের রিমান্ডে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে নাজমুল গত ২০ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনমান ও মূল্যবৃদ্ধি একনজরে কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, যেসব কারণ জানালেন গবেষকেরা রিপাবলিকানদের টেক্সাস ‘দুর্গ’ কি এবার ভেঙে দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী টালারিকো ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ অবস্থানে আফগানিস্তান, পেছনে পড়ল শ্রীলঙ্কাও

অপহরণ করে বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

রংপুর ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়ে জমি বিক্রির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলাল হোসেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মাহিগঞ্জ থানাধীন বড়দরগাহাট সংলগ্ন পূর্ব ফকিরা গ্রামের বাসিন্দা আলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলাল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ২১ জুন কাউনিয়া উপজেলার গোড়াই এলাকার বাসিন্দা ফুল মিয়ার মালিকানাধীন পীরগাছার বড়দরগা বাজারের সাড়ে তিন শতক জমি কেনার জন্য ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যে একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। এ সময় তিনি ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে বিক্রেতা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, পরে স্থানীয় সালিশে সিদ্ধান্ত হয় যে জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে তার বায়নার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে তদবির চালিয়ে যান। এ অবস্থায় পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২ জুন তাকে রংপুর শহরে ডেকে নেওয়া হয়।

আলাল হোসেনের অভিযোগ, ওইদিন রাতে তাকে কৌশলে মাহিগঞ্জ থানাধীন ফতা মুন্সিপাড়ায় কল্যাণী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শামছুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সুমন চৌধুরী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রিয়াদ তুহিন, যুবদল নেতা রুবেল রানা, জমির মালিক ফুল মিয়াসহ কয়েকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

তিনি বলেন, সেখানে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, রাস্তার রোলার দিয়ে পিষে ফেলা এবং চিকলির বিলে নিয়ে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে আরও ২ লাখ টাকা কেটে রেখে তাকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আলালের অভিযোগ, একই সময় তার ভাগ্নের মাধ্যমে সংরক্ষিত মূল বায়না চুক্তিপত্রও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, গত ৮ জুন মাহিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিন আগে গভীর রাতে তার বাড়িতে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “আমি একজন সাধারণ ট্রাকচালক। অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার কষ্টার্জিত ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার, ছিনতাই হওয়া বায়নাপত্র ফেরত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আলাল হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বায়নার সম্পূর্ণ টাকা আদায় এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

অপহরণ করে বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

রংপুরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়ে জমি বিক্রির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলাল হোসেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মাহিগঞ্জ থানাধীন বড়দরগাহাট সংলগ্ন পূর্ব ফকিরা গ্রামের বাসিন্দা আলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলাল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ২১ জুন কাউনিয়া উপজেলার গোড়াই এলাকার বাসিন্দা ফুল মিয়ার মালিকানাধীন পীরগাছার বড়দরগা বাজারের সাড়ে তিন শতক জমি কেনার জন্য ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যে একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। এ সময় তিনি ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে বিক্রেতা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, পরে স্থানীয় সালিশে সিদ্ধান্ত হয় যে জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে তার বায়নার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে তদবির চালিয়ে যান। এ অবস্থায় পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২ জুন তাকে রংপুর শহরে ডেকে নেওয়া হয়।

আলাল হোসেনের অভিযোগ, ওইদিন রাতে তাকে কৌশলে মাহিগঞ্জ থানাধীন ফতা মুন্সিপাড়ায় কল্যাণী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শামছুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সুমন চৌধুরী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রিয়াদ তুহিন, যুবদল নেতা রুবেল রানা, জমির মালিক ফুল মিয়াসহ কয়েকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

তিনি বলেন, সেখানে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, রাস্তার রোলার দিয়ে পিষে ফেলা এবং চিকলির বিলে নিয়ে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে আরও ২ লাখ টাকা কেটে রেখে তাকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আলালের অভিযোগ, একই সময় তার ভাগ্নের মাধ্যমে সংরক্ষিত মূল বায়না চুক্তিপত্রও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, গত ৮ জুন মাহিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিন আগে গভীর রাতে তার বাড়িতে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “আমি একজন সাধারণ ট্রাকচালক। অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার কষ্টার্জিত ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার, ছিনতাই হওয়া বায়নাপত্র ফেরত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আলাল হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বায়নার সম্পূর্ণ টাকা আদায় এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।