ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৯তম বিজেএস প্রিলির ফলে চমক: ২৫০ পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা দেবেন মাত্র ৩৪৩ প্রার্থী ব্যাংক উদ্ধার প্রকল্প ও জবাবিদিহি নিয়ে কিছু প্রশ্ন আমুসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের নিচে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৫ জনের চাকরি, বেতন নতুন পে স্কেলে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হাতিয়ায় স্কুলশিক্ষিকার বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্য আমিনুল ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও ফিল্ম সংকটে সেবা বন্ধ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্মের অভাবে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে সেবা কার্যক্রম। এতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে আসা প্রতিদিনের অসংখ্য রোগী চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্ম না থাকায় কোনো রোগীর এক্স-রে করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাড় ভাঙা, বুক, কোমর, হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করার জন্য প্রেসক্রিপশন দিলেও ট্রমা সেন্টারে গিয়ে রোগীরা জানতে পারছেন, ফিল্মের অভাবে সেবা বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রমা সেন্টারের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী শহীদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো এক্স-রে ফিল্ম নেই। তাই রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ফিল্ম কবে নাগাদ পাওয়া যেতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমরা ইন্ডেন্ট (চাহিদাপত্র) পাঠিয়েছি। তবে কবে ফিল্ম আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অনেক সময় ১৫ দিন লাগে, আবার কখনো এক থেকে দুই মাসও সময় লেগে যায়।

ফিল্ম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই কেন নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রমা সেন্টারের অপর এক স্টাফ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ফিল্ম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ইন্ডেন্ট গ্রহণ করা হয় না। তাই আগেভাগে চাহিদাপত্র পাঠানোর সুযোগ নেই।

ফিল্ম না থাকার মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের কীভাবে সেবা দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটাই আমাদের নিয়ম। নিয়মের বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।

এদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অনেক দরিদ্র রোগীর পক্ষে সেই ব্যয় বহন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “চিকিৎসক আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু ট্রমা সেন্টারে এসে জানতে পারলাম ফিল্ম নেই। এখন বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায়ই এক্স-রে ফিল্মের সংকট দেখা দেয় এবং এর ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও সময়মতো চাহিদাপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এ ধরনের সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, ফিল্ম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে পর্যাপ্ত মজুত থাকা অবস্থাতেই প্রয়োজনীয় ইন্ডেন্ট পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে কোনো রোগী জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং অযথা হয়রানির শিকার না হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও ফিল্ম সংকটে সেবা বন্ধ

আপডেট সময় : ০৪:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্মের অভাবে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে সেবা কার্যক্রম। এতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে আসা প্রতিদিনের অসংখ্য রোগী চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্ম না থাকায় কোনো রোগীর এক্স-রে করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাড় ভাঙা, বুক, কোমর, হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করার জন্য প্রেসক্রিপশন দিলেও ট্রমা সেন্টারে গিয়ে রোগীরা জানতে পারছেন, ফিল্মের অভাবে সেবা বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রমা সেন্টারের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী শহীদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো এক্স-রে ফিল্ম নেই। তাই রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ফিল্ম কবে নাগাদ পাওয়া যেতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমরা ইন্ডেন্ট (চাহিদাপত্র) পাঠিয়েছি। তবে কবে ফিল্ম আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অনেক সময় ১৫ দিন লাগে, আবার কখনো এক থেকে দুই মাসও সময় লেগে যায়।

ফিল্ম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই কেন নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রমা সেন্টারের অপর এক স্টাফ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ফিল্ম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ইন্ডেন্ট গ্রহণ করা হয় না। তাই আগেভাগে চাহিদাপত্র পাঠানোর সুযোগ নেই।

ফিল্ম না থাকার মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের কীভাবে সেবা দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটাই আমাদের নিয়ম। নিয়মের বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।

এদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অনেক দরিদ্র রোগীর পক্ষে সেই ব্যয় বহন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “চিকিৎসক আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু ট্রমা সেন্টারে এসে জানতে পারলাম ফিল্ম নেই। এখন বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায়ই এক্স-রে ফিল্মের সংকট দেখা দেয় এবং এর ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও সময়মতো চাহিদাপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এ ধরনের সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, ফিল্ম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে পর্যাপ্ত মজুত থাকা অবস্থাতেই প্রয়োজনীয় ইন্ডেন্ট পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে কোনো রোগী জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং অযথা হয়রানির শিকার না হন।