ঈদে চাঁদাবাজি বরদাশত নয়, সারা দেশে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না এবং এ ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। পাশাপাশি সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, ঈদের আগে ও পরে সাত দিন করে মোট ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এ সময় পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর হটলাইনও সচল রাখা হবে।
পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বক্তব্য সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ‘পুশইন’ প্রতিরোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে ‘নোম্যান্স ল্যান্ড’ বজায় রেখে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করা হবে।
চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে বলেও জানান তিনি। সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণ ও চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি পশুর হাট থাকবে। এসব হাটে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ক্যামেরা, ব্যাংক বুথ ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
























