চিলমারীতে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী-পাত্রখাতা মিনাবাজার সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বিশেষ করে আকালুরঘাট এলাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশে ধস নেমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পাত্রখাতা মিনাবাজারের সঙ্গে জোড়গাছ ও উপজেলা সদর এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে তিস্তার একটি খালের ওপর নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪ মিটার দীর্ঘ ওই ব্রিজটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস লুফা-জেডএইচডি (জেভি)। ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক হিসেবে এইচবিবি (হেরিংবোন ব্রিক) সড়ক নির্মাণ করা হয়।
তবে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশে ধস দেখা দেয়। এতে সড়কের কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং অটোরিকশা চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম, রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, এই সড়কটি পাত্রখাতা, মিনাবাজার, মন্ডলেরহাট, কাশিমবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপজেলা সদর, জোড়গাছ ও থানাহাট বাজারে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের দুই জায়গায় ধস নামায় এখন এটি প্রায় মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের সময় যদি গাইড ওয়াল ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হতো, তাহলে সড়কে এমন ধস নামতো না এবং মানুষের দুর্ভোগও সৃষ্টি হতো না।
অটোরিকশা চালক রহিম বলেন, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই এই সড়কে অটো চালাতে হচ্ছে। ধসে যাওয়া স্থানে পৌঁছালে অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে অটো ঠেলে পার করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়কে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে নজরে এসেছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

























