দাকোপে সুফল দিচ্ছে না ৭ কোটি টাকার পানি শোধনাগার
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার ‘সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। ফলে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। একদিকে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন পৌরবাসী, অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ‘৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর ভবনের পাশে এটি স্থাপন করা হয়। ভদ্রা নদী থেকে ১২ কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন এবং ৩৫১টি গ্রাহক সংযোগও দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় প্ল্যান্টের লোহার যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও বিকল হওয়ার পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঝেমধ্যেই সেখান থেকে মূল্যবান তার ও যন্ত্রপাতি চুরি হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
চালনা বাজার এলাকার গ্রাহক মুকুল সাহা বলেন, ‘সংযোগ নিতে আমাদের এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। মাসে মাত্র ২-৪ দিন পানি দিয়ে ৩০০ টাকা করে বিল নেওয়া হয়েছে। এখন দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলেও কোনো সমাধান নেই। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।’
উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘ভদ্রা খাল শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্ল্যান্টের পাশে একটি লেক বা তিন একর জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল পানির আধার তৈরির জন্য। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ তা দিতে না পারায় প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।’
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘পৌরসভার পাশের লেকটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হওয়ায় কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। সমস্যার সমাধান করে লেকটি পুনঃখনন করা হবে। পানির স্থায়ী আধার তৈরি করতে পারলেই নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
এদিকে, বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন পৌরবাসী।

























