ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও সভাপতির ছেলে এইচএসসি পাসের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা সাংবাদিক আলিফ হত্যায় অংশ নেন পাঁচজন, গুলি করেন তাজুল ‘আলোর পথে ফিরতে’ আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা, ২৯ জন আটক রামলীলায় লাখো জনতার সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের বার্তা, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্যালাক্সি এস২৬ এফই মডেলের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির

স্বাস্থ্যসেবা যেন সোনার হরিণ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ফলে মৌলিক চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

২০২১ সালে পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা এই চরে পরের বছর থেকে বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু এখনো সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় প্রসূতি ও জরুরি রোগীদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য অসুস্থতা হলেও চিকিৎসার জন্য দুই ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেরি হয়ে যায়।

চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম বলেন, “প্রসববেদনা উঠলেও সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। অনেক কষ্টে ভোরে হাসপাতালে যেতে হয়।”

বৃদ্ধ জব্বার মোল্লা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করেন, ফলে মা ও শিশুর জীবন বিপন্ন হয়। সাধারণ জ্বর, ডায়রিয়াসহ ছোটখাটো রোগেও কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া যায় না।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব বেপারী বলেন, “এখনো চরজানাজাতে কোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা দরকার।”

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গমতার কারণে নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়ে সপ্তাহে কয়েকদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চরে স্থায়ী ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

স্বাস্থ্যসেবা যেন সোনার হরিণ

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ফলে মৌলিক চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

২০২১ সালে পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা এই চরে পরের বছর থেকে বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু এখনো সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় প্রসূতি ও জরুরি রোগীদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য অসুস্থতা হলেও চিকিৎসার জন্য দুই ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেরি হয়ে যায়।

চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম বলেন, “প্রসববেদনা উঠলেও সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। অনেক কষ্টে ভোরে হাসপাতালে যেতে হয়।”

বৃদ্ধ জব্বার মোল্লা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করেন, ফলে মা ও শিশুর জীবন বিপন্ন হয়। সাধারণ জ্বর, ডায়রিয়াসহ ছোটখাটো রোগেও কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া যায় না।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব বেপারী বলেন, “এখনো চরজানাজাতে কোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা দরকার।”

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গমতার কারণে নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়ে সপ্তাহে কয়েকদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চরে স্থায়ী ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।