স্বাস্থ্যসেবা যেন সোনার হরিণ
- আপডেট সময় : ১১:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ফলে মৌলিক চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
২০২১ সালে পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা এই চরে পরের বছর থেকে বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু এখনো সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় প্রসূতি ও জরুরি রোগীদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য অসুস্থতা হলেও চিকিৎসার জন্য দুই ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেরি হয়ে যায়।
চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম বলেন, “প্রসববেদনা উঠলেও সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। অনেক কষ্টে ভোরে হাসপাতালে যেতে হয়।”
বৃদ্ধ জব্বার মোল্লা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করেন, ফলে মা ও শিশুর জীবন বিপন্ন হয়। সাধারণ জ্বর, ডায়রিয়াসহ ছোটখাটো রোগেও কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব বেপারী বলেন, “এখনো চরজানাজাতে কোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা দরকার।”
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গমতার কারণে নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়ে সপ্তাহে কয়েকদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চরে স্থায়ী ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।

























