ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা, ২৯ জন আটক রামলীলায় লাখো জনতার সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের বার্তা, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্যালাক্সি এস২৬ এফই মডেলের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় বিপদ ব্ল্যাক কার্বন গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, আগুন ও উত্তেজনার ছয় ঘণ্টা শিশুর কখন টয়লেট ব্যবহার শুরু করা উচিত ভৌতিক নয়, হ্যালোউইনে তারকাদের সাজে নস্টালজিয়া

চিকিৎসক থাকলেও পাকুন্দিয়ায় ওটি বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীরা

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ হলেও অজ্ঞাত কারণে গত তিন মাস ধরে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রসূতি মা ও জরুরি রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের ২০ জুন হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়। চালুর পর প্রায় দুই বছর নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং এ সময় ২৩৮টি সফল সিজার সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাহ মোহাম্মদ হাসানুর রহমান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় অপারেশন কার্যক্রম।

বর্তমানে নতুন করে গাইনী চিকিৎসক পদায়ন হলেও এখনো চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার। ওটি তালাবদ্ধ থাকায় রোগীরা এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় প্রায় বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিলেন। এতে তাদের খরচ যেমন কমত, তেমনি জেলা শহরে যাওয়ার ঝামেলাও কমে যেত। কিন্তু হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আবারও বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পৌর সদরের আনোয়ার খালী গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল বলেন, ‘আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তখন গাইনী চিকিৎসক না থাকায় আমাদের সদর হাসপাতালে যেতে হয়। এতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন চিকিৎসক এসেছে, কিন্তু ওটি চালু না থাকলে মানুষের উপকার হবে কীভাবে?’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৮টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম বলেন, ‘গাইনী বিশেষজ্ঞ না থাকায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ ছিল। বর্তমানে চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে।’ তবে চিকিৎসক থাকার পরও কেন ওটি চালু হয়নি—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন। আশা করছি দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালু হবে এবং মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

চিকিৎসক থাকলেও পাকুন্দিয়ায় ওটি বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট সময় : ১০:২৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ হলেও অজ্ঞাত কারণে গত তিন মাস ধরে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রসূতি মা ও জরুরি রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের ২০ জুন হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়। চালুর পর প্রায় দুই বছর নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং এ সময় ২৩৮টি সফল সিজার সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাহ মোহাম্মদ হাসানুর রহমান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় অপারেশন কার্যক্রম।

বর্তমানে নতুন করে গাইনী চিকিৎসক পদায়ন হলেও এখনো চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার। ওটি তালাবদ্ধ থাকায় রোগীরা এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় প্রায় বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিলেন। এতে তাদের খরচ যেমন কমত, তেমনি জেলা শহরে যাওয়ার ঝামেলাও কমে যেত। কিন্তু হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আবারও বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পৌর সদরের আনোয়ার খালী গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল বলেন, ‘আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তখন গাইনী চিকিৎসক না থাকায় আমাদের সদর হাসপাতালে যেতে হয়। এতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন চিকিৎসক এসেছে, কিন্তু ওটি চালু না থাকলে মানুষের উপকার হবে কীভাবে?’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৮টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম বলেন, ‘গাইনী বিশেষজ্ঞ না থাকায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ ছিল। বর্তমানে চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে।’ তবে চিকিৎসক থাকার পরও কেন ওটি চালু হয়নি—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন। আশা করছি দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালু হবে এবং মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।