ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় বোরো ধানে বিপর্যয়, পানির নিচে শত শত হেক্টর জমি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধায় দফায় দফায় বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, অনেক ক্ষেতেই বাতাসে ধান লুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতেও হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতি নরাইল, নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিনাবাড়ি, বেতকাপা, তুলশীঘাটসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধা পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন।

পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী গ্রামের সোলাগাড়ি বিল এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আগে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা থাকলেও কয়েক বছর আগে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের ফলে নালাটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে পানি জমে থাকায় বিঘাপ্রতি ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। তবুও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কাটা ধান জমিতে পড়ে থাকায় তাতেও পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ধান থেকে চারা বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

হরিনাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ধান ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। আগে এক বিঘা জমি কাটতে তিন-চার হাজার টাকা লাগত, এখন সাত-আট হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।’

নান্দিশহর গ্রামের ইজিবাইক চালক জাফিরুল বলেন, ‘ঋণ করে চাষ করেছি। এখন যদি ধান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঋণ শোধ করব না খাবার জোগাড় করব-তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় ২১২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় বোরো ধানে বিপর্যয়, পানির নিচে শত শত হেক্টর জমি

আপডেট সময় : ০৩:২১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধায় দফায় দফায় বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, অনেক ক্ষেতেই বাতাসে ধান লুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতেও হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতি নরাইল, নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিনাবাড়ি, বেতকাপা, তুলশীঘাটসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধা পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন।

পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী গ্রামের সোলাগাড়ি বিল এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আগে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা থাকলেও কয়েক বছর আগে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের ফলে নালাটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে পানি জমে থাকায় বিঘাপ্রতি ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। তবুও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কাটা ধান জমিতে পড়ে থাকায় তাতেও পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ধান থেকে চারা বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

হরিনাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ধান ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। আগে এক বিঘা জমি কাটতে তিন-চার হাজার টাকা লাগত, এখন সাত-আট হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।’

নান্দিশহর গ্রামের ইজিবাইক চালক জাফিরুল বলেন, ‘ঋণ করে চাষ করেছি। এখন যদি ধান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঋণ শোধ করব না খাবার জোগাড় করব-তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় ২১২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’