ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গুপ্ত’ লেখাকে ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে তারা। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে।

পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল “ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন-এর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লেখা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে, যার প্রতিবাদ জানায় ছাত্রশিবির।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

‘গুপ্ত’ লেখাকে ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৯

আপডেট সময় : ১১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে তারা। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে।

পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল “ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন-এর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লেখা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে, যার প্রতিবাদ জানায় ছাত্রশিবির।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।