ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ এমন স্বামী কি বাস্তবে মেলে? আবু বকরে মজেছেন দর্শকেরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র ‘জোন্স বিচ’। প্রতিবছর কোটি কোটি দর্শনার্থী এই সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই সৈকতের নাম যাঁর নামে রাখা হয়েছে, সেই টমাস জোন্স আদতে ১৭ শতকের এক দুর্ধর্ষ জলদস্যুর সহযোগী ছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন শখের ইতিহাসবিদ জেমস বেইলির গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পাঁচ বছর আগে কুখ্যাত ইংরেজ জলদস্যু ক্যাপ্টেন হেনরি এভরির ব্যবহৃত প্রাচীন মুদ্রা খুঁজে পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বেইলি। সম্প্রতি তৎকালীন ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন দলিল ও নথিপত্র ঘেঁটে তিনি দাবি করেন, হেনরি এভরি ও তাঁর দুর্ধর্ষ জলদস্যু দলকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সাহায্য করেছিলেন এই টমাস জোন্স।

.

১৬৯৫ সালে লোহিত সাগরে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় জাহাজ ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’-এ ভয়াবহ ডাকাতি করে ক্যাপ্টেন এভরির দল। জাহাজের যাত্রী ও নাবিকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কোটি কোটি ডলার মূল্যের সোনা-রুপা লুট করে জলদস্যুরা। 

এটিই ইতিহাসে জলদস্যুতার সবচেয়ে বড় ডাকাতির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রথম কোনো অপরাধীকে ধরতে সর্বাত্মক অভিযান শুরু হয়। কিছু জলদস্যু ধরা পড়লেও ক্যাপ্টেন এভরি ও তাঁর প্রধান সহযোগীরা চিরতরে আত্মগোপনে চলে যান।

.

ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, বিপুল সম্পদসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় টমাস জোন্স তাঁদের পথনির্দেশক হিসেবে সাহায্য করেছিলেন। এই সহায়তার পর ১৭ শতকের শেষের দিকে জোন্স নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন এবং তিমি শিকারের ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

১৬৯৮ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর এক তদন্ত প্রতিবেদনে জোন্সকে ‘সাবেক দস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বাড়িতে গোপন দস্যুতার অর্থ থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে জোন্স ইংরেজ সেনাবাহিনীর একজন মেজর ছিলেন।

.

টমাস জোন্সের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই সৈকত নিউইয়র্কের ঐতিহ্যের অংশ হলেও নতুন এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ঔপনিবেশিক অর্থনীতি ও অভিজাত শ্রেণির গড়ে ওঠার পেছনে জলদস্যুতার প্রত্যক্ষ ভূমিকার এক ঐতিহাসিক দিককে উন্মোচিত করেছে।

জোন্স বিচ: অ্যান ইলাস্ট্রেটেড হিস্ট্রি বইয়ের লেখক জন হ্যাঙ্ক বলেন, জোন্সের বিতর্কিত অতীতের যে অংশটি এত দিন স্থানীয় ইতিহাসের বইগুলোতে কেবল ইঙ্গিতে বলা হতো কিন্তু বিশদভাবে উঠে আসেনি, বেইলির এই গবেষণা সেটির ওপরই নতুন করে আলোকপাত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত

আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র ‘জোন্স বিচ’। প্রতিবছর কোটি কোটি দর্শনার্থী এই সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই সৈকতের নাম যাঁর নামে রাখা হয়েছে, সেই টমাস জোন্স আদতে ১৭ শতকের এক দুর্ধর্ষ জলদস্যুর সহযোগী ছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন শখের ইতিহাসবিদ জেমস বেইলির গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পাঁচ বছর আগে কুখ্যাত ইংরেজ জলদস্যু ক্যাপ্টেন হেনরি এভরির ব্যবহৃত প্রাচীন মুদ্রা খুঁজে পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বেইলি। সম্প্রতি তৎকালীন ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন দলিল ও নথিপত্র ঘেঁটে তিনি দাবি করেন, হেনরি এভরি ও তাঁর দুর্ধর্ষ জলদস্যু দলকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সাহায্য করেছিলেন এই টমাস জোন্স।

.

১৬৯৫ সালে লোহিত সাগরে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় জাহাজ ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’-এ ভয়াবহ ডাকাতি করে ক্যাপ্টেন এভরির দল। জাহাজের যাত্রী ও নাবিকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কোটি কোটি ডলার মূল্যের সোনা-রুপা লুট করে জলদস্যুরা। 

এটিই ইতিহাসে জলদস্যুতার সবচেয়ে বড় ডাকাতির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রথম কোনো অপরাধীকে ধরতে সর্বাত্মক অভিযান শুরু হয়। কিছু জলদস্যু ধরা পড়লেও ক্যাপ্টেন এভরি ও তাঁর প্রধান সহযোগীরা চিরতরে আত্মগোপনে চলে যান।

.

ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, বিপুল সম্পদসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় টমাস জোন্স তাঁদের পথনির্দেশক হিসেবে সাহায্য করেছিলেন। এই সহায়তার পর ১৭ শতকের শেষের দিকে জোন্স নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন এবং তিমি শিকারের ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

১৬৯৮ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর এক তদন্ত প্রতিবেদনে জোন্সকে ‘সাবেক দস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বাড়িতে গোপন দস্যুতার অর্থ থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে জোন্স ইংরেজ সেনাবাহিনীর একজন মেজর ছিলেন।

.

টমাস জোন্সের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই সৈকত নিউইয়র্কের ঐতিহ্যের অংশ হলেও নতুন এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ঔপনিবেশিক অর্থনীতি ও অভিজাত শ্রেণির গড়ে ওঠার পেছনে জলদস্যুতার প্রত্যক্ষ ভূমিকার এক ঐতিহাসিক দিককে উন্মোচিত করেছে।

জোন্স বিচ: অ্যান ইলাস্ট্রেটেড হিস্ট্রি বইয়ের লেখক জন হ্যাঙ্ক বলেন, জোন্সের বিতর্কিত অতীতের যে অংশটি এত দিন স্থানীয় ইতিহাসের বইগুলোতে কেবল ইঙ্গিতে বলা হতো কিন্তু বিশদভাবে উঠে আসেনি, বেইলির এই গবেষণা সেটির ওপরই নতুন করে আলোকপাত করেছে।