একসময়ের রাজনৈতিক মিত্ররা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও বিপুল আগ্রহ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচন আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান মেয়র কারেন বাস এবং সিটি কাউন্সিলের চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের সদস্য নিথিয়া রামান। একসময় রাজনৈতিক মিত্র থাকলেও এবার মেয়র পদে দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে শহরের রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
একদিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরছেন কারেন বাস। অন্যদিকে শহরের মৌলিক সেবা, আবাসন, গৃহহীনতা মোকাবিলা এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নিথিয়া রামান।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থন প্রায় সমান দেখা গেছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচার চালিয়েছেন তাঁরা। বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, পুলিশের ভূমিকা, নগরের অবকাঠামো, দাবানলের পর পুনর্গঠন এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজন—সবকিছুই নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ এলাকায় বাংলাদেশি ভোটার ও কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে দুই প্রার্থীর প্রচারশিবির। মতবিনিময় সভা, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ভোটারদের কাছে সমর্থন চাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিও নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
.
কারেন বাস: স্বাস্থ্যসেবাদাতা থেকে রাজনীতির শীর্ষে
কারেন বাসের পুরো নাম কারেন রুথ বাস। ১৯৫৩ সালের ৩ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর জন্ম ও সেখানেই বেড়ে ওঠা। কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের শুরু হলেও পরে তিনি স্বাস্থ্যসেবা পেশায় যুক্ত হন। তিনি চিকিৎসক নন; একজন ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি-ইউএসসি মেডিক্যাল সেন্টারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
১৯৯০ সালে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘কমিউনিটি কোয়ালিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন বাস। মাদকাসক্তি, এইডস, অপরাধ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠিত করাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
২০০৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন বাস। ২০০৮ সালে তিনি অ্যাসেম্বলির স্পিকার হন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের ইতিহাস গড়েন তিনি। এরপর ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০২২ সালের মেয়র নির্বাচনে রিক কারুসোকে পরাজিত করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৩তম মেয়র নির্বাচিত হন কারেন বাস। শহরটির প্রথম নারী ও দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র তিনি। এবার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন।
.
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই শহরে গৃহহীনতা নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন বাস। গৃহহীন মানুষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে অস্থায়ী আবাসনে নেওয়ার জন্য চালু করেন ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচি। তাঁর প্রশাসনের দাবি, এ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে হোটেল, মোটেল ও অন্যান্য অস্থায়ী আবাসনে নেওয়া হয়েছে।
সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের অনুমোদন দ্রুত করতে ‘এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টিভ ১’ জারি করেন তিনি। মেয়রের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও প্রায় ৫০ হাজার ইউনিট উন্নয়নপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
তবে গৃহহীনতা মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসনের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টানা দুই বছর গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কমার পর ২০২৬ সালের সর্বশেষ হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই সংখ্যা আবার বেড়েছে। ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় অস্থায়ী আবাসনে নেওয়া মানুষের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আবার রাস্তায় ফিরে গেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
.
প্যালিসেইডসের দাবানল ও বাসের সমালোচনা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্যালিসেইডস এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাজার হাজার বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। দাবানল শুরুর সময় কারেন বাস দেশের বাইরে ঘানায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতি এবং নগর প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আগুন মোকাবিলার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
দাবানল-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তা নিয়েও তাঁর প্রশাসন প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাবেক ফায়ার চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলিকে বরখাস্ত করার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করে। ক্রাউলি পরে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে বয়েল হাইটস এলাকার লাইনেজ কোল্ডস্টোরেজ গুদামে অগ্নিকাণ্ডের পর পচে যাওয়া মাংসের দুর্গন্ধ প্রায় দুই মাস ধরে এলাকায় ছড়িয়ে ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। এ ঘটনাও নগর প্রশাসনের জরুরি সাড়া ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে প্রচারে নেমে কারেন বাস এসব সমালোচনার জবাবে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন অর্জনের কথাই তুলে ধরছেন।
.
নিথিয়া রামান: ভারত থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজনীতিতে
নিথিয়া রামানের জন্ম ভারতের কেরালায়। ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পড়াশোনা শেষে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লিতে নগর দারিদ্র্য, বস্তিবাসীর অধিকার, পানি-স্যানিটেশন এবং ভূমির অধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে গৃহহীন মানুষের সহায়তায় কাজ শুরু করেন। ২০১৭ সালে সিলভার লেক, ইকোপার্ক, লস ফেলিজ, অ্যাটওয়াটার ভিলেজ ও হলিউড এলাকার গৃহহীন মানুষের সহায়তায় ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হন তিনি।
২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের চতুর্থ ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন রামান। তিনি সিটি কাউন্সিলের প্রথম দক্ষিণ এশীয় সদস্য। ২০২৪ সালে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। কাউন্সিল সদস্য হিসেবে আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার এবং গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। শহরের আবাসন ও গৃহহীনতা-সংক্রান্ত কমিটির নেতৃত্বও দিয়েছেন।
২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে বছরের শুরুতে কারেন বাসকে সমর্থন জানিয়েছিলেন রামান। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরই নিজেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য—শহরটি মৌলিক সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে; রাস্তাঘাট, ফুটপাত, সড়কবাতি, আবাসন ও গৃহহীনতা মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রশাসন দরকার।
.
বাড়িভাড়া ও আবাসন নিয়ে পরিকল্পনা
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাড়িভাড়া ও আবাসনসংকট নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। কারেন বাসের প্রশাসন দ্রুত সাশ্রয়ী আবাসন অনুমোদনের পাশাপাশি অফিস ভবনকে আবাসনে রূপান্তরের নিয়ম সহজ করার ওপর জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে নিথিয়া রামান ভাড়াটেদের অধিকার জোরালো করা, উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, ভাড়া বৃদ্ধির সীমা এবং বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির পক্ষে। মেয়র নির্বাচিত হলে হাউজিং ডিপার্টমেন্টের অধীনে ভাড়াটেদের সুরক্ষায় আলাদা দপ্তর গঠন এবং অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। এ ছাড়া ভবনের সামগ্রিক ইউটিলিটি খরচ ভাগ করে নেওয়ার পদ্ধতি ‘রেশিও ইউটিলিটি বিলিং সিস্টেমের’ ক্ষেত্রে হিসাব স্বচ্ছ করা এবং ভাড়াটেদের অভিযোগের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
.
গৃহহীনতা ও পুলিশের ভূমিকা
গৃহহীনতা মোকাবিলায় বাসের প্রধান কর্মসূচি ‘ইনসাইড সেফ’ নিয়ে রামানের বক্তব্য—ব্যয়ের প্রতিটি ডলারের ফলাফল যাচাই করতে হবে। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে রাস্তায় চিকিৎসাসেবা, টেকসই আবাসন এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা। ২০২৮ সালের অলিম্পিকের আগে রাস্তায় বসবাসকারী গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও দুজনের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। কারেন বাস লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) প্রধান জিম ম্যাকডোনেলকে সমর্থন করছেন। তাঁর মতে, অলিম্পিকের আগে পুলিশ নেতৃত্বে পরিবর্তন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে; তিনি পুলিশ সদস্য বাড়ানোরও পক্ষপাতী। অন্যদিকে রামান অতীতে পুলিশের বাজেট কমানোর পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রচারে বলেছেন, পুলিশের সদস্যসংখ্যা কমানো উচিত নয়। তবে আস্থা ফেরাতে তিনি পুলিশ নেতৃত্বে পরিবর্তন চান।
.
নির্বাচনী অর্থায়ন ও প্রচার জোট
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কারেন বাসের প্রচার তহবিলে প্রায় ৩৪ লাখ ডলার এবং নিথিয়া রামানের তহবিলে প্রায় ৩০ লাখ ডলার জমা পড়ে। শেষ এক মাসে বাস সংগ্রহ করেন ৮ লাখ ২৭ হাজার ডলার এবং রামান সংগ্রহ করেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। তবে শেষ পর্যায়ে হাতে থাকা অর্থের হিসাবে রামানের তহবিলে ছিল প্রায় ১৪ লাখ ডলার, যা বাসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
এর বাইরে স্বাধীন কমিটিগুলোও বড় অর্থ ব্যয় করেছে। রামানের পক্ষে ‘এস্তামোস কন নিথিয়া’ কমিটি ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রটেকটিভ লিগের সংশ্লিষ্ট কমিটি রামানের বিরুদ্ধে প্রচারে প্রায় ৪৮ লাখ ডলার ব্যয় করে।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও ইউসি বার্কলির যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর সমর্থনই ছিল সমান—উভয়েই ৪০ শতাংশ করে ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন এবং ১৯ শতাংশ ছিলেন সিদ্ধান্তহীন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে রামানের প্রচার জোটকে বৈচিত্র্যময় হিসেবে তুলে ধরা হয়, যেখানে শ্রমিক সংগঠন, ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার কর্মী এবং দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকানরা একসঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিক সংগঠন ইউনাইট হেয়ার লোকাল ইলেভেন তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে কারেন বাসের পক্ষে রয়েছে শহরের রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠিত ধারা এবং জাতীয় পর্যায়ের ডেমোক্র্যাট নেতারা।
.
বাংলাদেশি কমিউনিটি ও গাজা ইস্যু
লিটল বাংলাদেশ এলাকায় দুই প্রার্থীই সরাসরি প্রচার চালিয়েছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে লিটল বাংলাদেশের অর্কিড কিচেন রেস্তোরাঁয় কারেন বাসের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বে থাকা কোনো মেয়রের লিটল বাংলাদেশে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি মতবিনিময়।
সভায় স্থায়ী কমিউনিটি সেন্টার, বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধ, স্কুলে ঈদের ছুটিসহ নানা দাবি ওঠে। এতে উপস্থিত ছিলেন বুয়েনা পার্কের নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্য লামিয়া হক, আয়োজক সাবাহ নাবিহা, মমিনুল হক বাচ্চু, সাফিউল আলম বাবু ও শামীম হোসেন। গত সেপ্টেম্বরেও কারেন বাস ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠানে কমিউনিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অন্যদিকে ৩০ অক্টোবর এশীয় ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নিথিয়া রামানের প্রচারশিবির এশিয়ান ডেমোক্র্যাটস অব এলএ কাউন্টি, কোরিয়ান আমেরিকান ডেমোক্রেটিক কমিটি এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্কের শাকিল সৈয়দের সঙ্গে যৌথভাবে কে-টাউন ও লিটল বাংলাদেশে প্রচার চালায়। রামানের সমর্থক তালিকায় রয়েছে ‘অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার’।
এদিকে গাজা ইস্যুটিও আলোচনায় এসেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর স্কারবল কালচারাল সেন্টারের এক ফোরামে কারেন বাস গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ মনে করেন না বলে জানান। বিপরীতে নিথিয়া রামান আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন। এই অবস্থান বাংলাদেশি ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
.
শেষ দিনের বিতর্ক ও ভোটের অপেক্ষা
ভোটের আগের দিন কারেন বাস চায়নাটাউনের হোমগার্ল ক্যাফে, সিলমার ও প্যাকোইমায় প্রচার চালান। অন্যদিকে নিথিয়া রামান ইউসিএলএ-তে (UCLA) সমর্থকদের সমাবেশে অংশ নেন।
শেষের দিনে রামানের এক খণ্ডকালীন কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে বিতর্ক তৈরি হয়। বাস এ নিয়ে রামানের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তবে রামানের প্রচারশিবির জানায়, মন্তব্যটি তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় এবং ওই কর্মীকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাউন্টির কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ চলবে। তবে ডাকযোগে আসা ও যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকা ব্যালট গণনার কারণে চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেসবাসী বাসের অভিজ্ঞতা নাকি রামানের পরিবর্তনের ডাক বেছে নেবেন, তা নির্ধারণ করবে এই ভোট।

























