ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক ক্যারিয়ার সচেতনতা নিয়ে জানলেন শিক্ষার্থীরা ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল সরকারি কাজে নতুনদের সুযোগ, বদলাচ্ছে ঠিকাদার বাছাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসা কমছে ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর

প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন ১৩ শিক্ষার্থী। তবে তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

গত শনিবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।

.

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সে পাঠদান শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালে শুরু হয় এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাঠদান। এবার ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৭৩ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৬৪। এর মধ্যে শিক্ষকের পদ ৪৬টি এবং কর্মচারীর পদ ১৮টি। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী। অর্থাৎ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৪৩টি পদই শূন্য রয়েছে। শুধু শিক্ষক পদই শূন্য রয়েছে ৩১টি।

.

প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব নেন। ফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ফল বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষকসংকট। এ ছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারগুলো অর্থিক সংকটে থাকে। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়। এই বিষয়ও ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

.

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে শুনেছেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর চেষ্টা করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য

আপডেট সময় : ১২:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন ১৩ শিক্ষার্থী। তবে তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

গত শনিবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।

.

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সে পাঠদান শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালে শুরু হয় এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাঠদান। এবার ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৭৩ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৬৪। এর মধ্যে শিক্ষকের পদ ৪৬টি এবং কর্মচারীর পদ ১৮টি। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী। অর্থাৎ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৪৩টি পদই শূন্য রয়েছে। শুধু শিক্ষক পদই শূন্য রয়েছে ৩১টি।

.

প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব নেন। ফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ফল বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষকসংকট। এ ছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারগুলো অর্থিক সংকটে থাকে। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়। এই বিষয়ও ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

.

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে শুনেছেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর চেষ্টা করবেন।