ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁদ পেতে উল্টো .৫ ডিগ্রিতে আটকে গেল বাংলাদেশই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ তাহলে দুটো কারণে মিরপুর টেস্টটা হেরেছে!

এক. বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো বোলিং করেননি।

দুই. ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবে সামলাতে পারেননি।

চতুর্থ দিনের মধ্যেই ৮ উইকেটে হারের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও হারটাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। টেস্টের আরও অনেক কিছু নিয়েই তিনি কথা বলেছেন। তবে মূল কথা, স্পিনের চক্করে পড়েই বাংলাদেশের হার।

স্পিনের এই চক্কর কিন্তু আবার বাংলাদেশেরই সৃষ্টি। মানে স্বাগতিক দল যেহেতু, তারা তো ঘরের মাঠের সুবিধা নিতেই চাইবে। এটা দোষের কিছু নয়; কিন্তু সমস্যা হলো আপনার আমগাছে আম থাকলেই শুধু হবে না—আপনাকে আম পাড়তেও জানতে হবে। এই টেস্টে বাংলাদেশ সেই আমটাই পেড়ে খেতে পারেনি। উল্টো তাদের গাছের আম পেড়ে নিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

.

একটা ছোট্ট হিসাব দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। সিরিজ সম্প্রচারকদের এক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে গড়ে সাড়ে ৩ ডিগ্রি করে টার্ন আদায় করেছেন, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা টার্ন পেয়েছেন গড়ে ৩ ডিগ্রি করে।

বাংলাদেশের স্পিনারদের টার্ন যেখানে কোনো বলেই ৩.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছায়নি, সেখানে ক্যারিবীয় স্পিনারদের টার্ন কখনো কখনো ৩.৭ ডিগ্রিতেও পৌঁছেছে। এ রকম টার্নের সামনে খেলে সাধারণত অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। উপরন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনারদের টার্নগুলো ছিল ধারাবাহিক এবং হঠাৎ করে নেওয়া। আর বাংলাদেশের স্পিনারদের বেশির ভাগ বলই ঘুরেছে আস্তে এবং কিছুটা নিচু হয়ে।

.

এ তো গেল পুরো ম্যাচের হিসাব, এবার চতুর্থ দিন এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে আসা যাক। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের ৯ উইকেটই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার। অধিনায়ক রোস্টন চেজ অফ স্পিনে ৫টি ও প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি। তাঁদের চক্করে পড়ে আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে গতকাল আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

.চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে.

দ্বিতীয় ইনিংসে নেওয়া ৯ উইকেটসহ এই টেস্টে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। শতকরা হিসাবে মোট উইকেটের ৮০ শতাংশ। উল্টো দিকে বাংলাদেশের স্পিনারদের অবস্থাটা দেখুন—দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১২ উইকেটের মধ্যে তাঁরা নিয়েছেন ৮টি, যা মোট উইকেটের ৬০ শতাংশ। তবে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়েই যে দুই দলের স্পিনারদের তুল্যমূল্য বিবেচনা হবে, তা নয়। বলে বাঁক খাওয়ানোর যে তুলনাটা ওপরে দেওয়া হলো, সেটাই হলো আসল।

যে কারণে ঘরের মাঠেও বাংলাদেশের স্পিনাররা পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ওয়ানডে মেজাজেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে সফরকারী দল। এক দিনের বেশি সময় হাতে রেখে টেস্টটা জিততে তাদের লেগেছে মাত্র ৩৫.১ ওভার।

.

গতকাল লাঞ্চের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের বাকিটা, লিড দাঁড়ায় মাত্র ১৬৯ রানের। সেটি না–ও হতে পারত, যদি বল হাতে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও টেস্টে নিজের প্রথম ফিফটিটা না করতেন নাঈম হাসান। পরশু ৫৩ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাংলাদেশ যেটুকুই লিড নিতে পেরেছে, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া নাঈমকে তাতে বিশেষ কৃতিত্ব দিতেই হবে।

অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিল্ডারদের ভুলে পাওয়া সুযোগগুলো ব্যাটসম্যানরা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। দুইবার জীবন পেয়েছেন নাঈম, একবার হাসান মাহমুদ। তবুও রান ওই ১৪২-ই। আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট বাংলাদেশ।

.

প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

.

আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত মিলিয়ে টেস্টের চার দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা বন্ধ হয়েছে ৯ বার। প্রতিবারই নষ্ট হয়েছে কিছু না কিছু সময়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা হতে পেরেছে ৬০ ওভারের মতো কম। গতকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ দিকে বৃষ্টিতে খেলা থেমেছে একবার। লাঞ্চের আগে এক ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসও বারবার থেমেছে অপ্রত্যাশিত সব কারণে। কখনো বৃষ্টি, কখনো আলোকস্বল্পতা, কখনো আবার বজ্রপাত।

তবু সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছোট লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শরীফুল ইসলাম জন ক্যাম্পবেলের স্টাম্প উপড়ে ফেলার আগে ব্রেন্ডন কিংয়ের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে হয় ১১২ রান। কিং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৮১ রানে। অপরাজিত ৩১ রান এসেছে কেবন হজের ব্যাট থেকে। দলের ১২০ রানে তেজনারায়ণের আউটের পর তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড না পেলেও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না; আর দ্বিতীয় ইনিংসে তো পুরোই তাদের দাপট। প্রথমে স্পিন দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শৃঙ্খল পরিয়ে রাখা, পরে আবার বাংলাদেশের স্পিনারদের মামুলি বানিয়ে ছাড়া। স্পিনের জালটা বিছানো হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। সেই জালে কিনা আটকে গেল বাংলাদেশই!

.আবার কেন মিরপুরে এমন উইকেট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

ফাঁদ পেতে উল্টো .৫ ডিগ্রিতে আটকে গেল বাংলাদেশই

আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ তাহলে দুটো কারণে মিরপুর টেস্টটা হেরেছে!

এক. বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো বোলিং করেননি।

দুই. ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবে সামলাতে পারেননি।

চতুর্থ দিনের মধ্যেই ৮ উইকেটে হারের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও হারটাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। টেস্টের আরও অনেক কিছু নিয়েই তিনি কথা বলেছেন। তবে মূল কথা, স্পিনের চক্করে পড়েই বাংলাদেশের হার।

স্পিনের এই চক্কর কিন্তু আবার বাংলাদেশেরই সৃষ্টি। মানে স্বাগতিক দল যেহেতু, তারা তো ঘরের মাঠের সুবিধা নিতেই চাইবে। এটা দোষের কিছু নয়; কিন্তু সমস্যা হলো আপনার আমগাছে আম থাকলেই শুধু হবে না—আপনাকে আম পাড়তেও জানতে হবে। এই টেস্টে বাংলাদেশ সেই আমটাই পেড়ে খেতে পারেনি। উল্টো তাদের গাছের আম পেড়ে নিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

.

একটা ছোট্ট হিসাব দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। সিরিজ সম্প্রচারকদের এক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে গড়ে সাড়ে ৩ ডিগ্রি করে টার্ন আদায় করেছেন, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা টার্ন পেয়েছেন গড়ে ৩ ডিগ্রি করে।

বাংলাদেশের স্পিনারদের টার্ন যেখানে কোনো বলেই ৩.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছায়নি, সেখানে ক্যারিবীয় স্পিনারদের টার্ন কখনো কখনো ৩.৭ ডিগ্রিতেও পৌঁছেছে। এ রকম টার্নের সামনে খেলে সাধারণত অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। উপরন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনারদের টার্নগুলো ছিল ধারাবাহিক এবং হঠাৎ করে নেওয়া। আর বাংলাদেশের স্পিনারদের বেশির ভাগ বলই ঘুরেছে আস্তে এবং কিছুটা নিচু হয়ে।

.

এ তো গেল পুরো ম্যাচের হিসাব, এবার চতুর্থ দিন এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে আসা যাক। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের ৯ উইকেটই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার। অধিনায়ক রোস্টন চেজ অফ স্পিনে ৫টি ও প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি। তাঁদের চক্করে পড়ে আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে গতকাল আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

.চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে.

দ্বিতীয় ইনিংসে নেওয়া ৯ উইকেটসহ এই টেস্টে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। শতকরা হিসাবে মোট উইকেটের ৮০ শতাংশ। উল্টো দিকে বাংলাদেশের স্পিনারদের অবস্থাটা দেখুন—দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১২ উইকেটের মধ্যে তাঁরা নিয়েছেন ৮টি, যা মোট উইকেটের ৬০ শতাংশ। তবে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়েই যে দুই দলের স্পিনারদের তুল্যমূল্য বিবেচনা হবে, তা নয়। বলে বাঁক খাওয়ানোর যে তুলনাটা ওপরে দেওয়া হলো, সেটাই হলো আসল।

যে কারণে ঘরের মাঠেও বাংলাদেশের স্পিনাররা পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ওয়ানডে মেজাজেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে সফরকারী দল। এক দিনের বেশি সময় হাতে রেখে টেস্টটা জিততে তাদের লেগেছে মাত্র ৩৫.১ ওভার।

.

গতকাল লাঞ্চের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের বাকিটা, লিড দাঁড়ায় মাত্র ১৬৯ রানের। সেটি না–ও হতে পারত, যদি বল হাতে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও টেস্টে নিজের প্রথম ফিফটিটা না করতেন নাঈম হাসান। পরশু ৫৩ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাংলাদেশ যেটুকুই লিড নিতে পেরেছে, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া নাঈমকে তাতে বিশেষ কৃতিত্ব দিতেই হবে।

অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিল্ডারদের ভুলে পাওয়া সুযোগগুলো ব্যাটসম্যানরা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। দুইবার জীবন পেয়েছেন নাঈম, একবার হাসান মাহমুদ। তবুও রান ওই ১৪২-ই। আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট বাংলাদেশ।

.

প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

.

আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত মিলিয়ে টেস্টের চার দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা বন্ধ হয়েছে ৯ বার। প্রতিবারই নষ্ট হয়েছে কিছু না কিছু সময়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা হতে পেরেছে ৬০ ওভারের মতো কম। গতকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ দিকে বৃষ্টিতে খেলা থেমেছে একবার। লাঞ্চের আগে এক ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসও বারবার থেমেছে অপ্রত্যাশিত সব কারণে। কখনো বৃষ্টি, কখনো আলোকস্বল্পতা, কখনো আবার বজ্রপাত।

তবু সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছোট লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শরীফুল ইসলাম জন ক্যাম্পবেলের স্টাম্প উপড়ে ফেলার আগে ব্রেন্ডন কিংয়ের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে হয় ১১২ রান। কিং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৮১ রানে। অপরাজিত ৩১ রান এসেছে কেবন হজের ব্যাট থেকে। দলের ১২০ রানে তেজনারায়ণের আউটের পর তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড না পেলেও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না; আর দ্বিতীয় ইনিংসে তো পুরোই তাদের দাপট। প্রথমে স্পিন দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শৃঙ্খল পরিয়ে রাখা, পরে আবার বাংলাদেশের স্পিনারদের মামুলি বানিয়ে ছাড়া। স্পিনের জালটা বিছানো হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। সেই জালে কিনা আটকে গেল বাংলাদেশই!

.আবার কেন মিরপুরে এমন উইকেট