ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’ নায়ক শরীফুল রাজকে আইনি নোটিশ, ঘটনা কী পুরোনো বাস দিয়ে ছয় রুটে নতুন ব্যবস্থা চালু রোববার খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, চালকের আসনে ছিলেন ছেলে মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল

রান্নার চুলা নিয়ে মেসে মারধর, কিশোরের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে একটি মেসে রান্নার চুলা ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় নিরব হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিরব পেশায় মিস্ত্রি ছিল। সে রায়েরবাজারের গ্রিন গলির একটি মেসে থাকত। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার বাবা রংমিস্ত্রি এনায়েত হোসেন মুন্সি।

.

নিরবের বড় ভাই পিয়াল হোসেনের ভাষ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে মেসে গ্যাসের চুলায় ভাত রান্না করছিল নিরব। এ সময় একই মেসের রংমিস্ত্রি আলমগীর (২৮) রান্না করতে আসেন। চুলা ব্যবহার নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। নিরব ভাত রান্নার পর ডিম সেদ্ধ করতে চেয়েছিল। আলমগীর একই চুলায় রান্না করতে চাইলে বিরোধ বাধে। পরে নিরব নিজের কক্ষে চলে যায়।

পিয়াল হোসেন বলেন, রাতে তিনি ও নিরব বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ আলমগীর, তার ছোট ভাই শিমুল এবং তাদের ভাতিজা নাজিম ও ফাহিম মিলে নিরবকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিমুল কাঁচি দিয়ে নিরবের ঘাড়ে দুটি আঘাত করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

.

গুরুতর আহত নিরবকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই রাতেই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে ২২ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। পিয়াল জানায়, পুলিশ আলমগীরকে আটক করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

.

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির বলেন, নিরবের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিরব ছিল সবার ছোট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

রান্নার চুলা নিয়ে মেসে মারধর, কিশোরের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে একটি মেসে রান্নার চুলা ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় নিরব হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিরব পেশায় মিস্ত্রি ছিল। সে রায়েরবাজারের গ্রিন গলির একটি মেসে থাকত। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার বাবা রংমিস্ত্রি এনায়েত হোসেন মুন্সি।

.

নিরবের বড় ভাই পিয়াল হোসেনের ভাষ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে মেসে গ্যাসের চুলায় ভাত রান্না করছিল নিরব। এ সময় একই মেসের রংমিস্ত্রি আলমগীর (২৮) রান্না করতে আসেন। চুলা ব্যবহার নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। নিরব ভাত রান্নার পর ডিম সেদ্ধ করতে চেয়েছিল। আলমগীর একই চুলায় রান্না করতে চাইলে বিরোধ বাধে। পরে নিরব নিজের কক্ষে চলে যায়।

পিয়াল হোসেন বলেন, রাতে তিনি ও নিরব বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ আলমগীর, তার ছোট ভাই শিমুল এবং তাদের ভাতিজা নাজিম ও ফাহিম মিলে নিরবকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিমুল কাঁচি দিয়ে নিরবের ঘাড়ে দুটি আঘাত করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

.

গুরুতর আহত নিরবকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই রাতেই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে ২২ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। পিয়াল জানায়, পুলিশ আলমগীরকে আটক করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

.

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির বলেন, নিরবের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিরব ছিল সবার ছোট।