ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ নিহত ১৮, আহত ৩৭ অঞ্জলি, আরতি আর দেবীদর্শনে মুখর রমনা কালীমন্দির শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন কাদসিয়ার কাছে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শুরু ফর্টিসের ৬ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি: ৮ বছর পর আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি ক্যামেরায় দেখতে পারবেন যাত্রীরা, বসল ১৮টি মনিটর ও ৩২ ক্যামেরা ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২৭২ এবার জমবে কি পার্থ–নীহার রসায়ন

দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। আবার উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন পেশায় আছেন, যেখানে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়। এতে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শ্রমবাজার–বিষয়ক অধ্যায়ে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এশিয়ার কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতিতে কলেজ বা সমপর্যায়ের উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের বেকারত্ব প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু চাকরি না পাওয়াই সমস্যা নয়। চাকরি পেলেও অনেকের কাজ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলছে না।

আইএমএফের প্রতিবেদনমতে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন চাকরিতে আছেন, যে কাজের জন্য তাঁদের পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটির মতে, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে অমিল বেকারত্বের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ–তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় এ সমস্যায় বেশি পড়েন। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা চান, অনেক চাকরিপ্রার্থীর তা নেই। ফলে উপযুক্ত চাকরি পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে অনেকে এমন কাজ করতে বাধ্য হন, যেখানে তাঁদের অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগে না।

প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক কাজের আধিক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফ বলছে, এশিয়ার অনেক দেশে কৃষিসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির নিরাপত্তা কম। আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও পেশাগত উন্নতির সুযোগও সীমিত। তাই শুধু প্রচলিত বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো দুর্বলতা বোঝা যায় না।

তারুণ্য একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকি

বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে। আইএমএফের মতে, তরুণ জনসংখ্যাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। এর জন্য তরুণদের উৎপাদনশীল ও ভালো মানের চাকরিতে যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন। যথেষ্ট ভালো চাকরি তৈরি না হলে এবং শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে না পারলে একটি পুরো প্রজন্ম হতাশ হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়াচ্ছে। ১৯টি এশীয় অর্থনীতির ৪ কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে আইএমএফ দেখেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় কর্মীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে এআই–সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা আছে, এমন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির মতে, যেসব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাবে তুলনামূলক কম আক্রান্ত, তারাও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে। কারণ উৎপাদন ও সেবা খাতে ভবিষ্যতে যেসব নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, তার অনেকগুলোই এআইয়ের প্রভাবে বদলে যেতে পারে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমেছে

শ্রমবাজারের এই দুর্বলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। অথচ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

প্রযুক্তি ও এআইকেন্দ্রিক উত্থানের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর পূর্বাভাস বাড়লেও নিম্ন আয়ের অর্থনীতিগুলো উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বেশি চাপের মুখে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না

আপডেট সময় : ১২:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। আবার উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন পেশায় আছেন, যেখানে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়। এতে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শ্রমবাজার–বিষয়ক অধ্যায়ে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এশিয়ার কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতিতে কলেজ বা সমপর্যায়ের উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের বেকারত্ব প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু চাকরি না পাওয়াই সমস্যা নয়। চাকরি পেলেও অনেকের কাজ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলছে না।

আইএমএফের প্রতিবেদনমতে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন চাকরিতে আছেন, যে কাজের জন্য তাঁদের পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটির মতে, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে অমিল বেকারত্বের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ–তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় এ সমস্যায় বেশি পড়েন। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা চান, অনেক চাকরিপ্রার্থীর তা নেই। ফলে উপযুক্ত চাকরি পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে অনেকে এমন কাজ করতে বাধ্য হন, যেখানে তাঁদের অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগে না।

প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক কাজের আধিক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফ বলছে, এশিয়ার অনেক দেশে কৃষিসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির নিরাপত্তা কম। আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও পেশাগত উন্নতির সুযোগও সীমিত। তাই শুধু প্রচলিত বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো দুর্বলতা বোঝা যায় না।

তারুণ্য একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকি

বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে। আইএমএফের মতে, তরুণ জনসংখ্যাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। এর জন্য তরুণদের উৎপাদনশীল ও ভালো মানের চাকরিতে যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন। যথেষ্ট ভালো চাকরি তৈরি না হলে এবং শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে না পারলে একটি পুরো প্রজন্ম হতাশ হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়াচ্ছে। ১৯টি এশীয় অর্থনীতির ৪ কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে আইএমএফ দেখেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় কর্মীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে এআই–সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা আছে, এমন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির মতে, যেসব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাবে তুলনামূলক কম আক্রান্ত, তারাও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে। কারণ উৎপাদন ও সেবা খাতে ভবিষ্যতে যেসব নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, তার অনেকগুলোই এআইয়ের প্রভাবে বদলে যেতে পারে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমেছে

শ্রমবাজারের এই দুর্বলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। অথচ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

প্রযুক্তি ও এআইকেন্দ্রিক উত্থানের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর পূর্বাভাস বাড়লেও নিম্ন আয়ের অর্থনীতিগুলো উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বেশি চাপের মুখে রয়েছে।