ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ দুই শিশু খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে, একজনের মৃত্যু গাইবান্ধায় প্রায় ৬ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস চুনতি চেকপোস্টে ধাওয়া শেষে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ বনশ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনশ্রী থানা নামে পৃথক থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি শিবিরকে বিদায় বললেন সাদিক কায়েম, মেয়র পদে লড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মানিলন্ডারিং মামলায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র গ্রেফতার গাইবান্ধায় ১০৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার গাইবান্ধায় চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, ভাতিজা পলাতক গাইবান্ধায় কিশোর রায়হান হত্যা: ঢাকা থেকে দুই বন্ধু গ্রেপ্তার

কৃষি প্রণোদনার সার-বীজ রেখে পালালেন ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ ও রাসায়নিক সার রেখে পালিয়েছেন ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডলের ছেলে আব্দুস সবুর।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংলগ্ন গুদাম থেকে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫ জন কৃষকের নামে বরাদ্দকৃত ৭৫ কেজি ধান বীজ ও ৩০০ কেজি রাসায়নিক সার উত্তোলন করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষি বিভাগের চলতি মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত এসব ধান বীজ ও রাসায়নিক সার প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। তবে উপকারভোগী কৃষকদের অনুপস্থিতিতে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে আব্দুস সবুর গুদাম থেকে এসব কৃষি উপকরণ উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছে ১৫ জন কৃষকের কৃষি উপকরণ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ কৃষি উপকরণগুলো রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

পরে কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপকারভোগী প্রকৃত কোনো কৃষককে না পেয়ে ইজিবাইক থেকে উত্তোলনকৃত ৩০০ কেজি রাসায়নিক সার ও ৭৫ কেজি ধান বীজ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জব্দ করে গুদামে সংরক্ষণ করেন।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অনুকূলে প্রণোদনা বরাদ্দ দিলেও চেয়ারম্যান ও তার ছেলে প্রতি মৌসুমে প্রকৃত কোনো কৃষককে না দিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেরাই এসব উপকরণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, তালিকায় ১৫ জন কৃষকের নাম থাকলেও চেয়ারম্যানের ছেলে একাই তাদের প্রণোদনার সার ও বীজ উত্তোলন করেছেন। এর আগেও তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডলের ছেলে অভিযুক্ত আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমার বাবার নামে ১৪টি প্রণোদনার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে আমার নামে একটি ছিল। বাকি ১৩টি কৃষকদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা না আসায় আমি সবার প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করেছি। আমি পালাইনি। যখন আমাকে এসব উপকরণ দেওয়া হয়নি, তখন আমি সেখান থেকে চলে এসেছি।’

এ বিষয়ে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘বিভাজনের পর আমার ভাগে ১৪টি প্রণোদনা ছিল। আমার কৃষক ছেলের নামে একটি দিয়ে বাকি প্রণোদনাগুলো কৃষকদের দিয়েছি। প্রত্যেকবারই আমার ছেলে সবার প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করে নিয়ে আসে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কৃষকদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা হয়।’

এবিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর উত্তোলনকৃত সার-বীজ আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রকৃত উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

কৃষি প্রণোদনার সার-বীজ রেখে পালালেন ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ ও রাসায়নিক সার রেখে পালিয়েছেন ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডলের ছেলে আব্দুস সবুর।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংলগ্ন গুদাম থেকে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫ জন কৃষকের নামে বরাদ্দকৃত ৭৫ কেজি ধান বীজ ও ৩০০ কেজি রাসায়নিক সার উত্তোলন করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষি বিভাগের চলতি মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত এসব ধান বীজ ও রাসায়নিক সার প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। তবে উপকারভোগী কৃষকদের অনুপস্থিতিতে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে আব্দুস সবুর গুদাম থেকে এসব কৃষি উপকরণ উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছে ১৫ জন কৃষকের কৃষি উপকরণ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ কৃষি উপকরণগুলো রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

পরে কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপকারভোগী প্রকৃত কোনো কৃষককে না পেয়ে ইজিবাইক থেকে উত্তোলনকৃত ৩০০ কেজি রাসায়নিক সার ও ৭৫ কেজি ধান বীজ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জব্দ করে গুদামে সংরক্ষণ করেন।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অনুকূলে প্রণোদনা বরাদ্দ দিলেও চেয়ারম্যান ও তার ছেলে প্রতি মৌসুমে প্রকৃত কোনো কৃষককে না দিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেরাই এসব উপকরণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, তালিকায় ১৫ জন কৃষকের নাম থাকলেও চেয়ারম্যানের ছেলে একাই তাদের প্রণোদনার সার ও বীজ উত্তোলন করেছেন। এর আগেও তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডলের ছেলে অভিযুক্ত আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমার বাবার নামে ১৪টি প্রণোদনার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে আমার নামে একটি ছিল। বাকি ১৩টি কৃষকদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা না আসায় আমি সবার প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করেছি। আমি পালাইনি। যখন আমাকে এসব উপকরণ দেওয়া হয়নি, তখন আমি সেখান থেকে চলে এসেছি।’

এ বিষয়ে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘বিভাজনের পর আমার ভাগে ১৪টি প্রণোদনা ছিল। আমার কৃষক ছেলের নামে একটি দিয়ে বাকি প্রণোদনাগুলো কৃষকদের দিয়েছি। প্রত্যেকবারই আমার ছেলে সবার প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করে নিয়ে আসে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কৃষকদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা হয়।’

এবিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর উত্তোলনকৃত সার-বীজ আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রকৃত উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।’