ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইবার অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন হলেও এর অস্পষ্ট ও বিস্তৃত বিধান যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এমন মত উঠে এসেছে। বক্তারা বলেন, অপরাধী দমনে রাষ্ট্রকে ক্ষমতা দিতে হবে, তবে সেই ক্ষমতার ওপর কার্যকর বিচারিক তদারকি ও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।

বক্তারা বলেন, হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার, র‌্যানসমওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর আইন দরকার; কিন্তু ‘গুজব’, ‘মিসইনফরমেশন’, ‘অপমান’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনস্বার্থের বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ও পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এতে ভুল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও আছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাধারণ নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না, পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে বললে পুলিশের মানহানি হবে কি না, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।

আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে—এমন আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে থাকা ইতিবাচক বিষয় বাদ দিয়ে আবার কেন সংশোধন করা হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননপ্রফিট ল (আইসিএনএল)–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তোলা যাবে না।

সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এগুলো হলো ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা; ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা; কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা; সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ গণ্য না করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, সঞ্চালনা করেন আব্বাস ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়

আপডেট সময় : ১০:০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন হলেও এর অস্পষ্ট ও বিস্তৃত বিধান যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এমন মত উঠে এসেছে। বক্তারা বলেন, অপরাধী দমনে রাষ্ট্রকে ক্ষমতা দিতে হবে, তবে সেই ক্ষমতার ওপর কার্যকর বিচারিক তদারকি ও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।

বক্তারা বলেন, হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার, র‌্যানসমওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর আইন দরকার; কিন্তু ‘গুজব’, ‘মিসইনফরমেশন’, ‘অপমান’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনস্বার্থের বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ও পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এতে ভুল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও আছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাধারণ নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না, পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে বললে পুলিশের মানহানি হবে কি না, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।

আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে—এমন আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে থাকা ইতিবাচক বিষয় বাদ দিয়ে আবার কেন সংশোধন করা হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননপ্রফিট ল (আইসিএনএল)–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তোলা যাবে না।

সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এগুলো হলো ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা; ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা; কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা; সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ গণ্য না করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, সঞ্চালনা করেন আব্বাস ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।