২০০ বছরের ঐতিহ্যের নতুন দুলাল ব্যাপারী বাড়ি মসজিদে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা, নেই অজুখানা ও টয়লেট
- আপডেট সময় : ০১:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের নতুন দুলাল ব্যাপারী বাড়ি জামে মসজিদটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দীর্ঘদিনের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদটির অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক প্রজন্ম ধরে এলাকার মানুষ এ মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন। সময়ের সঙ্গে এলাকার জনসংখ্যা ও মুসল্লির সংখ্যা বাড়লেও মসজিদের অবকাঠামো সেভাবে সম্প্রসারণ করা হয়নি। ফলে জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে চরম জায়গা সংকটে পড়তে হয়।
মসজিদটিতে বর্তমানে অজুখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। মুসল্লিদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক অজুখানা ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা পুকুরটি ভরাট করে নামাজের জায়গা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া মসজিদের ঘরের চালও সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের পুরোনো স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বর্ষাকালে মসজিদের ভেতরে পানি পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মসজিদের মুসল্লি মকবুল হোসেন, তোফাজ্জল হক , মফিজল হক, আব্দুল খালেক, আসাদ মিয়া, লাল মিয়া, শামছুল হক ও নব গঠিত মসজিদ কমিটির সভাপতি নুরুল আলম ডাকুয়া জানান, দেশ স্বাধীনের ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত এই মসজিদটিতে সরকারি ভাবে অনুদান দেয়া হয়নি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নিজেদের অর্থে মসজিদের বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও দানশীল মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
মুসল্লি ও এলাকাবাসী ২৯-গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের জরুরি নেক দৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এমপির উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে মসজিদটির জরুরি সংস্কার, নতুন ঘরের চাল নির্মাণ, অজুখানা ও টয়লেট স্থাপন , মসজিদের সামনের পুকুর ভরাট করে নামাজের স্থান সম্প্রসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার।
প্রায় ২ শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে, সেই সংরক্ষিত হবে এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।




















