ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লামিনে ইয়ামালের নাম কেন ‘লামিনে ইয়ামাল’ সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ সিনেমা, সাফল্যের নেপথ্যে কী প্রথম আলোতে হামলা: সাড়ে ১০ মাসেও তদন্ত এগোয়নি, গ্রেপ্তার সবাই জামিনে মুক্ত বাসে রং করলেই রুট রেশনালাইজেশন হবে না আমির, আসিফ, বাট: তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের পতন ও এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের ১৫ বছর যেখানে সারা বছর ৬০০ টাকায় বাটার জুতা কেনা যায়, বছরে বিক্রি ১ লাখ জোড়া প্লাম গাউনে মুগ্ধতা ছড়ালেন টালিউড ফ্যাশনিস্তা ঐন্দ্রিলা সেন রাজনীতি আটকে গেছে ডানপন্থী ফাঁদে, বাম ও লিবারেলরা কী করবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে একজন নারীর প্রার্থিতা এবং একটি পুরোনো পরীক্ষা ধনকুবেরা কিনছেন দ্বীপ, বানাচ্ছেন বাংকার, কিসের আশঙ্কা

ভুল আগাছানাশক দিলেন কীটনাশক দোকানী, ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট কৃষকের

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৬৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে।

অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মাহাবুর মিয়ার দোকানে গিয়ে আগাছানাশক চান। তখন তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেওয়া হয়। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিনই ধানের চারাগুলো মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।’

তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহাবুর মিয়া বলেন, ‘আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।’

সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে অফিসে যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধটি এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে কেন আগাছা নষ্ট না হয়ে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অপরিচিত নম্বর ধরা হয় না। সে ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে হয়তো বিষয়টি সহজে জানানো সম্ভব হতো।’

অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ভুল আগাছানাশক দিলেন কীটনাশক দোকানী, ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট কৃষকের

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে।

অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মাহাবুর মিয়ার দোকানে গিয়ে আগাছানাশক চান। তখন তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেওয়া হয়। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিনই ধানের চারাগুলো মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।’

তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহাবুর মিয়া বলেন, ‘আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।’

সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে অফিসে যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধটি এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে কেন আগাছা নষ্ট না হয়ে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অপরিচিত নম্বর ধরা হয় না। সে ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে হয়তো বিষয়টি সহজে জানানো সম্ভব হতো।’

অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’