ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক বিধবার ৬৩ দশমিক ৫০ শতক স্বামীর পৈত্রিক জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষক মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলনের বিরুদ্ধে। জমির দখল ছেড়ে দিতে বলায় ওই বিধবাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ মমতাজ বেগম (৪৮)। তিনি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী।

অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন একই গ্রামের খলিল তালুকদারের ছেলে। তিনি ছয়ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মমতাজ বেগমের স্বামী মৃত মজিবর রহমানের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া উজান বোচাগাড়ী ও ছয়ঘড়িয়া মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের মোট ৬৩ দশমিক ৫০ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় তিন বছর ধরে শিক্ষক মিলনসহ মো. হাফিজুর মিয়া (৫৮), মো. দুলু মিয়া (৫২) ও দুলু মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল ইসলাম (৩০) ওই জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা জমি ছাড়েননি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এরই মধ্যে গত ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মমতাজ বেগম বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এতে শিক্ষক মিলনসহ অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য উদ্যত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে শিক্ষক মিলনসহ অভিযুক্তরা তাকে ও তার স্বজনদের হুমকি দিয়ে বলেন, জমির দখল নিতে গেলে মারধর করে হত্যা করে লাশ জমিতেই পুঁতে রাখা হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে আর্থিক ক্ষতিসহ হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতাজ বেগম।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ‘জমির মালিকানা ও ভোগদখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুলশিক্ষক মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন বলেন, ‘জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সালিশে উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে মমতাজ বেগম সালিশের রায় মানেননি। এই জমি নিয়ে মমতাজ বেগম আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আমি রায় পেয়েছি।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক বিধবার ৬৩ দশমিক ৫০ শতক স্বামীর পৈত্রিক জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষক মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলনের বিরুদ্ধে। জমির দখল ছেড়ে দিতে বলায় ওই বিধবাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ মমতাজ বেগম (৪৮)। তিনি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী।

অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন একই গ্রামের খলিল তালুকদারের ছেলে। তিনি ছয়ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মমতাজ বেগমের স্বামী মৃত মজিবর রহমানের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া উজান বোচাগাড়ী ও ছয়ঘড়িয়া মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের মোট ৬৩ দশমিক ৫০ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় তিন বছর ধরে শিক্ষক মিলনসহ মো. হাফিজুর মিয়া (৫৮), মো. দুলু মিয়া (৫২) ও দুলু মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল ইসলাম (৩০) ওই জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা জমি ছাড়েননি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এরই মধ্যে গত ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মমতাজ বেগম বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এতে শিক্ষক মিলনসহ অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য উদ্যত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে শিক্ষক মিলনসহ অভিযুক্তরা তাকে ও তার স্বজনদের হুমকি দিয়ে বলেন, জমির দখল নিতে গেলে মারধর করে হত্যা করে লাশ জমিতেই পুঁতে রাখা হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে আর্থিক ক্ষতিসহ হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতাজ বেগম।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ‘জমির মালিকানা ও ভোগদখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুলশিক্ষক মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন বলেন, ‘জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সালিশে উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে মমতাজ বেগম সালিশের রায় মানেননি। এই জমি নিয়ে মমতাজ বেগম আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আমি রায় পেয়েছি।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’