ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে আমন ধানের চারা রোপণে বাধা, হামলায় আহত ৬

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে আমন ধানের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাইসহ একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় লাঠি, লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছামিউল ইসলাম (৬০)।

ভুক্তভোগী ছামিউল ইসলাম উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা গ্রামের মৃত মফিজল হকের ছেলে। অভিযুক্ত একই গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে ও বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমান (৩৫) এবং তার ভাই আঃ রহিম (৪০)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছামিউল ইসলাম ও তার ভাগি-শরিকরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮৮ শতক জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তিনি তার ভাই আনজু মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও ভাতিজা মিজানুর রহমানকে নিয়ে ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করতে যান।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুর রহমান, আঃ রহিমসহ আরও কয়েকজন লাঠি, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে জমিতে ঢুকে চারা রোপণে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ছামিউল ইসলাম ও তার স্বজনদের ঘিরে ধরে হামলা চালান।

আহতরা হলেন, ছামিউল ইসলাম (৬০), তার ভাই আনজু মিয়া (৫৩), আনোয়ার হোসেন (৫৫), স্ত্রী মমিনা বেগম (৪৮), আনজু মিয়ার স্ত্রী ছকিনা বেগম (৪৮) ও ছেলে মিজানুর রহমান (২৫)।

এজাহারে বলা হয়, আনজু মিয়ার চোখের নিচে, আনোয়ার হোসেনের মাথায় এবং মিজানুর রহমানের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মমিনা বেগম ও ছকিনা বেগমকেও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাদের হাতেও গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মমিনা বেগমের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ছকিনা বেগমের নাকের ফুল খুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ছামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে দুই হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মারামারির অভিযোগে একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সুন্দরগঞ্জে আমন ধানের চারা রোপণে বাধা, হামলায় আহত ৬

আপডেট সময় : ১১:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে আমন ধানের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাইসহ একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় লাঠি, লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছামিউল ইসলাম (৬০)।

ভুক্তভোগী ছামিউল ইসলাম উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা গ্রামের মৃত মফিজল হকের ছেলে। অভিযুক্ত একই গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে ও বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমান (৩৫) এবং তার ভাই আঃ রহিম (৪০)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছামিউল ইসলাম ও তার ভাগি-শরিকরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮৮ শতক জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তিনি তার ভাই আনজু মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও ভাতিজা মিজানুর রহমানকে নিয়ে ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করতে যান।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুর রহমান, আঃ রহিমসহ আরও কয়েকজন লাঠি, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে জমিতে ঢুকে চারা রোপণে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ছামিউল ইসলাম ও তার স্বজনদের ঘিরে ধরে হামলা চালান।

আহতরা হলেন, ছামিউল ইসলাম (৬০), তার ভাই আনজু মিয়া (৫৩), আনোয়ার হোসেন (৫৫), স্ত্রী মমিনা বেগম (৪৮), আনজু মিয়ার স্ত্রী ছকিনা বেগম (৪৮) ও ছেলে মিজানুর রহমান (২৫)।

এজাহারে বলা হয়, আনজু মিয়ার চোখের নিচে, আনোয়ার হোসেনের মাথায় এবং মিজানুর রহমানের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মমিনা বেগম ও ছকিনা বেগমকেও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাদের হাতেও গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মমিনা বেগমের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ছকিনা বেগমের নাকের ফুল খুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ছামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে দুই হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মারামারির অভিযোগে একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’