ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১৫ বছরের বিরোধের অবসান, ৩৩ শতাংশ জমি ফিরে পেলেন চার ভাই

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ৩৩ শতাংশ জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা বিরোধের পর নথিপত্র যাচাই ও স্থানীয় উদ্যোগে জমিটি উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত হানিফ মুন্সির ছেলে সাকের আলী ও ওসমান গনী, মৃত কান্দুরা মুন্সির ছেলে আমিনুল ইসলাম এবং মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে নবীর হোসেন। একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. হাকিমুদ্দিন ও মৃত জেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. আয়নাল হকের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বেলকা মৌজার ৭৬৩১ ও ৭৬৫৮ নম্বর দাগে তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ রয়েছে। প্রতিপক্ষের প্রাপ্য ২১ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দলিল করে নেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত ৩৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি তাদের দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে মো. হাকিমুদ্দিন ও মো. আয়নাল হকের বিরুদ্ধে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি আদালতে সিপিসি আদেশের মিস কেস নম্বর-৩৩৮ এবং ডিপি খতিয়ান নম্বর-১১১২ নিয়েও বিরোধের কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে পূর্বের ৮১৮৮/১৪ নম্বর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে ডিপি খতিয়ান নম্বর-১১১২-তে ৩৩ শতাংশ জমি রেকর্ড হওয়ার তথ্যও নথিতে রয়েছে।

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম জমির দখল না পাওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা পরবর্তী সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হননি। পরে আবেদনকারীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত ৩৩ শতাংশ জমি উদ্ধার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি ফিরে পাওয়ায় সাকের আলী, ওসমান গনী, আমিনুল ইসলাম ও নবীর হোসেনের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের জমির দখল থেকে বঞ্চিত ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত জমিটি ফিরে পেয়েছি। এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. গোলজার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র যাচাই করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জমিটি মালিকপক্ষের দখলে ফিরে এসেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

১৫ বছরের বিরোধের অবসান, ৩৩ শতাংশ জমি ফিরে পেলেন চার ভাই

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ৩৩ শতাংশ জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা বিরোধের পর নথিপত্র যাচাই ও স্থানীয় উদ্যোগে জমিটি উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত হানিফ মুন্সির ছেলে সাকের আলী ও ওসমান গনী, মৃত কান্দুরা মুন্সির ছেলে আমিনুল ইসলাম এবং মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে নবীর হোসেন। একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. হাকিমুদ্দিন ও মৃত জেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. আয়নাল হকের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বেলকা মৌজার ৭৬৩১ ও ৭৬৫৮ নম্বর দাগে তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ রয়েছে। প্রতিপক্ষের প্রাপ্য ২১ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দলিল করে নেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত ৩৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি তাদের দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে মো. হাকিমুদ্দিন ও মো. আয়নাল হকের বিরুদ্ধে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি আদালতে সিপিসি আদেশের মিস কেস নম্বর-৩৩৮ এবং ডিপি খতিয়ান নম্বর-১১১২ নিয়েও বিরোধের কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে পূর্বের ৮১৮৮/১৪ নম্বর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে ডিপি খতিয়ান নম্বর-১১১২-তে ৩৩ শতাংশ জমি রেকর্ড হওয়ার তথ্যও নথিতে রয়েছে।

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম জমির দখল না পাওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা পরবর্তী সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হননি। পরে আবেদনকারীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত ৩৩ শতাংশ জমি উদ্ধার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি ফিরে পাওয়ায় সাকের আলী, ওসমান গনী, আমিনুল ইসলাম ও নবীর হোসেনের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের জমির দখল থেকে বঞ্চিত ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত জমিটি ফিরে পেয়েছি। এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. গোলজার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র যাচাই করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জমিটি মালিকপক্ষের দখলে ফিরে এসেছে।’