ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৩য় দিনে ৪ শতাধিক কারখানায় ছুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগত ইন্ধন নিয়ে সতর্ক সরকার বাংলাদেশে সিমেন্স ইডিএর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হলো পেন্টা গ্লোবাল পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে রাজশাহী বন্ধুসভার উদ্যোগ

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ঝুঁকিতে বসতঘর

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, মাছের খামার, সড়ক ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাল-ছড়া উপচে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত। নদী ও খালের ভাঙনে অনেক বসতঘর এখন হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে রামগঙ্গা ও চন্ডিছড়া মাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে ওই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, আকস্মিক ঢলে তার চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চন্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চললেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ঝুঁকিতে বসতঘর

আপডেট সময় : ০৮:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, মাছের খামার, সড়ক ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাল-ছড়া উপচে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত। নদী ও খালের ভাঙনে অনেক বসতঘর এখন হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে রামগঙ্গা ও চন্ডিছড়া মাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে ওই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, আকস্মিক ঢলে তার চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চন্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চললেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।