ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৩য় দিনে ৪ শতাধিক কারখানায় ছুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের

টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি: জেলা প্রশাসনের সব ধরনের ছুটি বাতিল, পানিবন্দী সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বৃষ্টিতে জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষাই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রথম দফার ত্রাণ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে পৃথক উদ্ধার ও ত্রাণ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি: জেলা প্রশাসনের সব ধরনের ছুটি বাতিল, পানিবন্দী সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বৃষ্টিতে জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষাই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রথম দফার ত্রাণ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে পৃথক উদ্ধার ও ত্রাণ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নয়।”