ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছি, উল্টো আমার ওপরই হামলা করেছে’ টিএমজিবির সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত রায় ৫৫ বছরেও কনসার্টের জন্য স্থায়ী ভেন্যু নেই, এটা লজ্জার: হামিন আহমেদ এইচএসসিতে এমন ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল অগ্নিকাণ্ডে পুঁজি হারানো ব্যবসায়ীর পাশে রব্বানী, দিলেন ২ লাখ টাকা একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট তৈরি করছে ইলন মাস্কের নিউরালিংক, যে সুবিধা পাওয়া যাবে আলীবাবা থেকে বাংলাদেশি কোম্পানি স্টেপ ফুটওয়্যারের জুতা কিনতে পারবেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্র শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বাড়ি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং বোনরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও সভাপতি নির্বাচন নিয়ে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুন বিকেলে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রংপুরের সাতগাড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাইফুল্লাহ বারি এবং শিবির কর্মী সালাহউদ্দিনের ওপর বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় হামলা চালানো হয়।

হামলায় সাইফুল্লাহ বারি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আহত সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনায় নিহত সাইফুল্লাহ বারির পরিবার মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা করার পর থেকে মূল অভিযুক্ত মুকুল আত্মগোপন করেছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছিল।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সতিতলা সাহেব বাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে সাদা পোশাকে মোকলেছুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে সাঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও কর্মীরা মূল অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদেশে প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতারের খবরে নিহতের আত্মীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা এই মামলায় পলাতক থাকা অন্য অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এই মামলায় বাকি পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০১:৩২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্র শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বাড়ি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং বোনরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও সভাপতি নির্বাচন নিয়ে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুন বিকেলে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রংপুরের সাতগাড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাইফুল্লাহ বারি এবং শিবির কর্মী সালাহউদ্দিনের ওপর বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় হামলা চালানো হয়।

হামলায় সাইফুল্লাহ বারি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আহত সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনায় নিহত সাইফুল্লাহ বারির পরিবার মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা করার পর থেকে মূল অভিযুক্ত মুকুল আত্মগোপন করেছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছিল।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সতিতলা সাহেব বাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে সাদা পোশাকে মোকলেছুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে সাঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও কর্মীরা মূল অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদেশে প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতারের খবরে নিহতের আত্মীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা এই মামলায় পলাতক থাকা অন্য অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এই মামলায় বাকি পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’