ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট তৈরি করছে ইলন মাস্কের নিউরালিংক, যে সুবিধা পাওয়া যাবে আলীবাবা থেকে বাংলাদেশি কোম্পানি স্টেপ ফুটওয়্যারের জুতা কিনতে পারবেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকা খুলনাকে পেলেই সেঞ্চুরি, আল আমিনের আবার ১০২ সুন্দরগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোভ্যানযাত্রী নিহত, আহত ২ সুন্দরগঞ্জে ২০টি অবৈধ জাল ধ্বংস, একজনকে জরিমানা জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ এটি সালিসের চেয়ে নিচে নেমে গেছে এমপির ছেলে নূরুজ্জামান আবারও দুই দিনের রিমান্ডে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

হাতকড়াসহ উধাও মাদক কারবারি, ৮ দিনেও মেলেনি সন্ধান; প্রত্যাহার ৬ পুলিশ সদস্য

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাধবপুর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছ থেকে হাতকড়াসহ (হ্যান্ডকাফ) জুয়েল নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার আটদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে ডিবির এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলসহ মোট ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সোমবার ১৫ জুন বিকালে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে একটি ধানের জমি থেকে দেবনগর গ্রামের জুয়েলকে আটক করেছিলেন সাদা পোশাকে থাকা ডিবি পুলিশের সদস্যরা। আটক করার পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হলেও স্থানীয় লোকজনের ধস্তাধস্তির সুযোগে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়েলকে আটক করার পরপরই তার সঙ্গে ডিবি সদস্যদের ধস্তাধস্তি শুরু হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে এগিয়ে আসে। ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের ছিনতাইকারী বা অপরিচিত দুষ্কৃতকারী মনে করে মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে ডিবি সদস্যরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত স্থানীয় জনতা জুয়েলকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়েলকে আবারও গ্রেপ্তার ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালায়।

স্থানীয়দের দাবি, ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়ার মধ্যস্থতায় হ্যান্ডকাফটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এই ঘটনার দুই দিন পর, ১৭ জুন জেলা পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

ওয়ার্ড সদস্য মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের পরিচয় বুঝতে পারেননি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক তার অধীনস্থদের বিষয়ে স্পষ্ট করে বললেন, সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান ঘটনার দুই দিন আগেই সদর থানা থেকে ডিএসবিতে বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাকে থানা হাজিরায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।

তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ এই ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে মন্তব্য করেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজী হননি।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পলাতক মাদক কারবারি জুয়েলকে গ্রেপ্তার এবং হ্যান্ডকাফটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হাতকড়াসহ উধাও মাদক কারবারি, ৮ দিনেও মেলেনি সন্ধান; প্রত্যাহার ৬ পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় : ১০:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মাধবপুর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছ থেকে হাতকড়াসহ (হ্যান্ডকাফ) জুয়েল নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার আটদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে ডিবির এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলসহ মোট ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত সোমবার ১৫ জুন বিকালে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে একটি ধানের জমি থেকে দেবনগর গ্রামের জুয়েলকে আটক করেছিলেন সাদা পোশাকে থাকা ডিবি পুলিশের সদস্যরা। আটক করার পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হলেও স্থানীয় লোকজনের ধস্তাধস্তির সুযোগে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়েলকে আটক করার পরপরই তার সঙ্গে ডিবি সদস্যদের ধস্তাধস্তি শুরু হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে এগিয়ে আসে। ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের ছিনতাইকারী বা অপরিচিত দুষ্কৃতকারী মনে করে মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে ডিবি সদস্যরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত স্থানীয় জনতা জুয়েলকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়েলকে আবারও গ্রেপ্তার ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালায়।

স্থানীয়দের দাবি, ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়ার মধ্যস্থতায় হ্যান্ডকাফটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এই ঘটনার দুই দিন পর, ১৭ জুন জেলা পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

ওয়ার্ড সদস্য মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের পরিচয় বুঝতে পারেননি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক তার অধীনস্থদের বিষয়ে স্পষ্ট করে বললেন, সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান ঘটনার দুই দিন আগেই সদর থানা থেকে ডিএসবিতে বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাকে থানা হাজিরায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।

তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ এই ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে মন্তব্য করেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজী হননি।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পলাতক মাদক কারবারি জুয়েলকে গ্রেপ্তার এবং হ্যান্ডকাফটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।