সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার পর সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন বদলি
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আলোচিত অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ উত্তোলন সংক্রান্ত তথ্য জানতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজার সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তির বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন সরিয়ে নিতে বলেন, ধমক দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই কার্যালয় ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ২২ জুন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্তকালে সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তের পরদিন হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। যদিও জমির বর্তমান দখলদার বা ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে এখনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়।
এদিকে জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। এ দুই প্রতিবেদনের পরস্পরবিরোধী তথ্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি ব্যবস্থাপনা, নামজারি, খাসজমি সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল।
এছাড়া চলতি বছরের ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০ এপ্রিল তাকে কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা ও আলোচিত ভূমি কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হলো।




















