ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে নাজমুল গত ২০ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনমান ও মূল্যবৃদ্ধি একনজরে কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, যেসব কারণ জানালেন গবেষকেরা রিপাবলিকানদের টেক্সাস ‘দুর্গ’ কি এবার ভেঙে দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী টালারিকো ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ অবস্থানে আফগানিস্তান, পেছনে পড়ল শ্রীলঙ্কাও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, তবে জরিপ নিয়ে আশঙ্কাও কি নেই এক জোড়া ছোট্ট মাছের দাম ১৫ হাজার টাকা, মেলায় ছিল আরও কত চমক সাপ-পোকামাকড়ের ভয় মানেই প্রকৃতির প্রতি অনাগ্রহ নয় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রেখেছে চীন, দেখায়নি রিয়াল মাদ্রিদের খেলা

তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বাড়ছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজানের ঢল ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর মধ্যে তিনটির পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ০২ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপদসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ২৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ৭৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বিপদসীমা ১৯ দশমিক ৩৫ মিটার। বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।

গাইবান্ধা শহরসংলগ্ন ঘাঘট নদীর নিউব্রিজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত একদিনে এ নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে করতোয়া নদীর চকরহিমাপুর স্টেশনে পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সেখানে পানির উচ্চতা ১৫ দশমিক ৮৯ মিটার, যা বিপদসীমার ৩৮১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সকাল ৯টা থেকে ২৩ জুন সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা জেলায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও জেলার অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক কম, তবুও উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গবাদিপশু, খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পানি বাড়ার খবরে চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বীজতলা, সবজিখেত এবং নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে তিস্তা ও যমুনা তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত।

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বাড়ছে

আপডেট সময় : ১২:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

উজানের ঢল ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর মধ্যে তিনটির পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ০২ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপদসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ২৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ৭৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বিপদসীমা ১৯ দশমিক ৩৫ মিটার। বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।

গাইবান্ধা শহরসংলগ্ন ঘাঘট নদীর নিউব্রিজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত একদিনে এ নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে করতোয়া নদীর চকরহিমাপুর স্টেশনে পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সেখানে পানির উচ্চতা ১৫ দশমিক ৮৯ মিটার, যা বিপদসীমার ৩৮১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সকাল ৯টা থেকে ২৩ জুন সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা জেলায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও জেলার অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক কম, তবুও উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গবাদিপশু, খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পানি বাড়ার খবরে চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বীজতলা, সবজিখেত এবং নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে তিস্তা ও যমুনা তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত।

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’