স্কুলের নাস্তা খেয়ে অসুস্থ ৮ শিক্ষার্থী, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
- আপডেট সময় : ০৭:৩০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা নাস্তা খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার ১২৯ নম্বর বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো রাকিবুল হাসান, আতিকুর রহমান, মরিয়ম খাতুন, সোহান শেখ, মারিয়া খাতুন, আওলিয়া খাতুন, তানিয়া খাতুন ও আরেক মরিয়ম খাতুন। তারা বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয়ে নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। নাস্তা খাওয়ার কিছু সময় পর কয়েকজন শিক্ষার্থীর পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। পরে একে একে মোট ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নাস্তা বিতরণের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’
বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুদীপ সরকার বলেন, ‘পেটব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নাস্তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে যে খাবার সরবরাহ করা হয়, তার মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটির মান ও উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ও খাদ্য পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















