ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে ২০টি অবৈধ জাল ধ্বংস, একজনকে জরিমানা জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ এটি সালিসের চেয়ে নিচে নেমে গেছে এমপির ছেলে নূরুজ্জামান আবারও দুই দিনের রিমান্ডে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে নাজমুল গত ২০ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনমান ও মূল্যবৃদ্ধি একনজরে কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, যেসব কারণ জানালেন গবেষকেরা রিপাবলিকানদের টেক্সাস ‘দুর্গ’ কি এবার ভেঙে দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী টালারিকো ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ অবস্থানে আফগানিস্তান, পেছনে পড়ল শ্রীলঙ্কাও

সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের ক্ষোভ, এসিল্যান্ডের অপসারণ দাবি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং ক্যামেরা-মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজাহান সোহেল।

সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য ছোলায়মান সরকার, সাইদুর রহমান, আব্দুল কাফি সরকার ও শামিম সর্দার।

বক্তারা বলেন, সরকারি তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, জসিম উদ্দীন সাদুল্লাপুরে যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

তারা আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন উগ্র, মারমুখী ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সভা থেকে অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুটি সরকারি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের সঙ্গে উগ্র ও অপেশাদার আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধমক দিয়ে সাংবাদিকদের কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন।

ঘটনার ভিডিওচিত্র ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের ক্ষোভ, এসিল্যান্ডের অপসারণ দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং ক্যামেরা-মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজাহান সোহেল।

সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য ছোলায়মান সরকার, সাইদুর রহমান, আব্দুল কাফি সরকার ও শামিম সর্দার।

বক্তারা বলেন, সরকারি তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, জসিম উদ্দীন সাদুল্লাপুরে যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

তারা আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন উগ্র, মারমুখী ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সভা থেকে অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুটি সরকারি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের সঙ্গে উগ্র ও অপেশাদার আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধমক দিয়ে সাংবাদিকদের কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন।

ঘটনার ভিডিওচিত্র ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।