তথ্য চাইতেই ক্ষিপ্ত সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, সাংবাদিকের বুম-ক্যামেরা ধাক্কিয়ে অফিস ত্যাগ
- আপডেট সময় : ১০:৩১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যমুনা টেলিভিশন ও সময় টিভির দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা তার বিরূপ আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধাপেরহাট এলাকায় সরকারের ১/১ অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য নিতে যমুনা টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে যান।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, কার্যালয়ে প্রবেশের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন প্রথমে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলেন। পরে সাংবাদিকরা বুম ও ক্যামেরা নিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের হাতে থাকা বুম ও ক্যামেরা ধাক্কিয়ে সরিয়ে দেন, আঙুল উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। পরে দ্রুত সরকারি গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় রংপুর মহাসড়কের ফোরলেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১/১ খতিয়ান ও ২৩৭ নম্বর বিআরএস খতিয়ানের প্রায় সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা ও উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসের অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, একই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় আসাদুল্লাহ ফারুকী আপত্তি জানান। এর আগে ২০২২ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদারের প্রতিবেদনে ওই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ নেই বলে উল্লেখ করা হলেও ২০২৫ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত তহসিলদার আতিয়ার রহমানের প্রতিবেদনে জমিটি অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয় এবং সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়েই সাংবাদিকরা অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি শুনে সাংবাদিকদের তার কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম এনডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করার পরামর্শ দেন এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। পরে চলতি বছরের ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান এবং ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ জারি হয়। তবে বদলির আদেশের পরও তিনি সাদুল্লাপুরে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
























