কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর
- আপডেট সময় : ০১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে তর্কের জেরে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার একদিন পর অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন নিহত কিশোরের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে নিহত কিশোর রাহাতের পরিবারের সদস্য, ওয়ারিশ ও স্বজনরা বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে থালা-বাসন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তারা বাড়িতে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করেন। তবে আশপাশের বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধরা প্রথমে জবান আলীর বাড়িতে এবং পরে সাদেকুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই কিশোরসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহত কিশোরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় এলাকার একটি বড় দিঘিতে গোসল করতে নামে স্থানীয় তিন কিশোর সাকিব (১৫), রিফাত (১৫) ও রাহাত (১৫)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলের সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখে। এতে রাহাত অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাহাতের মৃত্যুর পরপরই অভিযুক্ত দুই কিশোর পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
অভিযুক্ত দুই কিশোরের মধ্যে সাকিব উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের জবান আলীর ছেলে এবং রিফাত একই গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে।
























