হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। কর্মসূচিতে বিএনপি ও কৃষকদলের নেতারাও সংহতি প্রকাশ করেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকার তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে মহাসড়কে অবরোধ গড়ে তোলেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানান। এর আগে সড়কের অটো লেনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবরোধের কারণে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং ভ্যাপসা গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্যসচিব দিল মেরাজুল দুলুসহ অন্যরা।
পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পাওয়ায় দুপুর ১টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তাজহাট থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় আরও প্রায় আধা ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সমাবেশে জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার মালিকরা প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচসহ প্রতি কেজি আলুর মোট ব্যয় ২৪ টাকারও বেশি হচ্ছে। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর প্রভাবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মালিকানায় ১০টির বেশি কোল্ড স্টোরেজ থাকায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে দাবি করেন তৈয়বুর রহমান। তার ভাষ্য, ‘প্রতিবছর রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলু সংরক্ষণের ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে ৪৩০ টাকা কেন হবে?’
তিনি হিমাগার ভাড়া সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় নির্ধারিত প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণ ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা হলেও আমরা নিচ্ছি ৬ টাকা ৩২ পয়সা। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এসব আন্দোলনের মাধ্যমে মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া কমানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। দুপুর ১টার দিকে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন। পরে দেড়টার মধ্যে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।’
























