ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হার্ভার্ডের লিড ফেলোশিপ, অনলাইনের পাশাপাশি কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ বেলে মাছ কেন বালির নিচে থাকে খরচের চাপে ৮১% কর্মীর অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই ছাতিমের গন্ধে মন মাতে কেন সিলেটে তৌসিফ, সাফা ও টয়ার ঘোরাঘুরির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৯ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত শিক্ষক সাধন চক্রবর্তীকে বাঁচাতে সহায়তা দরকার মস্কোর পার্কে হামলার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর কিশোরকে আটক করল রাশিয়া কেমব্রিজের কুয়াশায় ক্রিস্টোফার রাউন্ডের ছায়া: প্রেম, ঈর্ষা ও এক অশান্ত আত্মার গল্প অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি

স্মৃতির উঠোনে ফিরলেন প্রাক্তনরা, আবেগ-আনন্দে মুখর গুনভড়ি স্কুল প্রাঙ্গণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুনভড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০০ থেকে ২০১০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর পর পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্রিত হওয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আবেগ, আনন্দ আর স্মৃতিচারণে ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

শুক্রবার (২৯ মে) দিনব্যাপী বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ হাতে ব্যাচ, কেউ পুরনো বন্ধুদের খুঁজছেন, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় জড়িয়ে ধরছেন একে অপরকে। সময় যেন হঠাৎ করেই সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় স্কুলজীবনের সেই সোনালি দিনগুলোতে।

সকালে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাজ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আনন্দ শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র ও সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে বিদ্যালয় চত্বরে ছিল হাসি, গল্প, ছবি তোলা আর পুরনো দিনের স্মৃতিচারণের ব্যস্ততা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেই অনেককে পুরনো ক্লাসরুমের সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ বেঞ্চে বসে পুরনো দিনের গল্প করেছেন, কেউ শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে সালাম করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। অনেকের চোখেই দেখা গেছে আনন্দের অশ্রু।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আল মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এবং হাসানুজ্জামান তিতুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গুনভড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতলুবর রহমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ উর রহমান, আশিকুর রহমান, রবিউল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মজনুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম ছবদুলসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানই করে না, বরং একজন মানুষের জীবনবোধ, মূল্যবোধ ও স্বপ্ন গড়ে তোলে। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, শিক্ষকদের স্নেহ আর একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতির অংশ হয়ে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতলুবর রহমান বলেন, ‘প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিদ্যালয়ের গর্ব। তারা জীবনের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হলেও হৃদয়ের টানেই আবার এই প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এমন আয়োজন বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করে।’

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ উর রহমান বলেন, ‘অনেক বছর পর একসঙ্গে সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে আবার স্কুলজীবনে ফিরে গেছি। সেই ক্লাসরুম, মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এমন একটি দিন সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।’

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘জীবনের প্রয়োজনে আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছি। কিন্তু এই স্কুলের স্মৃতি কখনও ভোলা যায় না। আজকের আয়োজন আমাদের আবারও এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, সময় থেমে গেছে সেই পুরনো দিনে।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আল মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এই বিদ্যালয় আমাদের শেকড়। এখানে আমরা শুধু লেখাপড়া শিখিনি, শিখেছি মানুষ হতে। তাই পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্র করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে।’

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে জমে ওঠে পুরো আয়োজন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ছোট ছোট সন্তানদের নিজের স্কুল ঘুরিয়ে দেখাতে দেখা যায় অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে।

দিনশেষে বিদায়ের মুহূর্তে ছিল এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ। আবার কবে দেখা হবে, সেই প্রতিশ্রুতি আর স্মৃতিভরা ছবিতে ধরে রাখা মুহূর্ত নিয়েই বিদায় নেন অংশগ্রহণকারীরা।

হাসি, গল্প, স্মৃতি আর আবেগে ভরা এই পুনর্মিলনী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় এক দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

স্মৃতির উঠোনে ফিরলেন প্রাক্তনরা, আবেগ-আনন্দে মুখর গুনভড়ি স্কুল প্রাঙ্গণ

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুনভড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০০ থেকে ২০১০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর পর পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্রিত হওয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আবেগ, আনন্দ আর স্মৃতিচারণে ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

শুক্রবার (২৯ মে) দিনব্যাপী বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ হাতে ব্যাচ, কেউ পুরনো বন্ধুদের খুঁজছেন, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় জড়িয়ে ধরছেন একে অপরকে। সময় যেন হঠাৎ করেই সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় স্কুলজীবনের সেই সোনালি দিনগুলোতে।

সকালে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাজ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আনন্দ শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র ও সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে বিদ্যালয় চত্বরে ছিল হাসি, গল্প, ছবি তোলা আর পুরনো দিনের স্মৃতিচারণের ব্যস্ততা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেই অনেককে পুরনো ক্লাসরুমের সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ বেঞ্চে বসে পুরনো দিনের গল্প করেছেন, কেউ শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে সালাম করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। অনেকের চোখেই দেখা গেছে আনন্দের অশ্রু।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আল মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এবং হাসানুজ্জামান তিতুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গুনভড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতলুবর রহমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ উর রহমান, আশিকুর রহমান, রবিউল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মজনুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম ছবদুলসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানই করে না, বরং একজন মানুষের জীবনবোধ, মূল্যবোধ ও স্বপ্ন গড়ে তোলে। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, শিক্ষকদের স্নেহ আর একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতির অংশ হয়ে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতলুবর রহমান বলেন, ‘প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিদ্যালয়ের গর্ব। তারা জীবনের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হলেও হৃদয়ের টানেই আবার এই প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এমন আয়োজন বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করে।’

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ উর রহমান বলেন, ‘অনেক বছর পর একসঙ্গে সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে আবার স্কুলজীবনে ফিরে গেছি। সেই ক্লাসরুম, মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এমন একটি দিন সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।’

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘জীবনের প্রয়োজনে আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছি। কিন্তু এই স্কুলের স্মৃতি কখনও ভোলা যায় না। আজকের আয়োজন আমাদের আবারও এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, সময় থেমে গেছে সেই পুরনো দিনে।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আল মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এই বিদ্যালয় আমাদের শেকড়। এখানে আমরা শুধু লেখাপড়া শিখিনি, শিখেছি মানুষ হতে। তাই পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্র করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে।’

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে জমে ওঠে পুরো আয়োজন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ছোট ছোট সন্তানদের নিজের স্কুল ঘুরিয়ে দেখাতে দেখা যায় অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে।

দিনশেষে বিদায়ের মুহূর্তে ছিল এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ। আবার কবে দেখা হবে, সেই প্রতিশ্রুতি আর স্মৃতিভরা ছবিতে ধরে রাখা মুহূর্ত নিয়েই বিদায় নেন অংশগ্রহণকারীরা।

হাসি, গল্প, স্মৃতি আর আবেগে ভরা এই পুনর্মিলনী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় এক দিন।