ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ এমন স্বামী কি বাস্তবে মেলে? আবু বকরে মজেছেন দর্শকেরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

মিঠাপুকুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় সাত মাস আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নতুন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। ২০০২ সালে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদে পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড ক্ষয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে পাঠদান চলছে।

সম্প্রতি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এখন খোলা বারান্দায় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মিঠাপুকুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় সাত মাস আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নতুন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। ২০০২ সালে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদে পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড ক্ষয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে পাঠদান চলছে।

সম্প্রতি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এখন খোলা বারান্দায় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।