রাণীশংকৈলে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও অনুপস্থিত
- আপডেট সময় : ০৭:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে অধিকাংশ সময় খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রামের নারীরা।
উপজেলার গোগোর গ্রামের গৃহবধূ মালেকা খাতুন (২৯) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার তো থাকেই না, তেমন কোনো ওষুধও পাওয়া যায় না। শুধু ওরস্যালাইন আর আয়রনের ট্যাবলেট দেওয়া হয়। গর্ভনিরোধের কোনো সামগ্রীও পাওয়া যায় না। এমন ক্লিনিক দিয়ে কী লাভ?”
তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে এসব ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পাটগাঁও গ্রামের আরেক গৃহবধূ আসমা আক্তার বলেন, গ্রামে অনেক নারী অল্পশিক্ষিত হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতন নন। তারা ক্লিনিকে গিয়ে সুখী ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশন চাইলে কিছুই পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে বেশিরভাগ ক্লিনিকে শুধু ওরস্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে।
কোচল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার আপতারুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের পর থেকে ক্লিনিকে কোনো ওষুধ সরবরাহ আসেনি। রোগীরা প্রতিদিনই এসে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল-হানিফ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কালাম আহমেদ বলেন, উপজেলায় ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোতেই একই পরিস্থিতি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, জেলায় ১৪৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনার পর থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না এবং ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

























