মূল্যস্ফীতির চাপে স্থবির আয়, গাইবান্ধায় মধ্যবিত্তের নীরব সংকট
- আপডেট সময় : ১১:০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

চড়া মূল্যস্ফীতি আর স্থবির আয়ের চাপে গাইবান্ধায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ধীরে ধীরে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে শ্রেণিচ্যুতির মুখে পড়ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের ভিড়ে অনেক পরিবার এখন আগের জীবনমান ধরে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে।
শহরের পুরাতন বাজার এলাকায় কথা হয় স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম (৪৮)-এর সঙ্গে। বাজারে মাছের দাম শুনে হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এখন বাজারে এলে বুক কাঁপে। আয় বাড়েনি, কিন্তু খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’
তিনি জানান, দুই বছর আগে যে রুই মাছ কেজি ২০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা সাড়ে ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামের খাদ্যের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে তাকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে, বিশেষ করে মফস্বল শহরগুলোতে।
কলেজপাড়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার জানান, তার স্বামীর ২৫ হাজার টাকার আয় দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, বাজার ও সন্তানের শিক্ষাখরচ মেটাতে প্রতি মাসেই ঋণ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর চিকিৎসায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ করতে গিয়ে এখন তিনি ঋণের ভারে জর্জরিত।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। অনেকেই সামাজিক অবস্থান ধরে রাখতে না পারার আশঙ্কায় নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারছেন না।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শহরে বসবাস করা মজিবর রহমান (৫২) বলেন, ‘গ্রামে ফেরার পথ নেই, শহরে টিকে থাকাও কঠিন। আমরা এক অদ্ভুত অবস্থার মধ্যে আছি।’
সচেতন মহলের মতে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির এই সংকোচন শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলছে। বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং কার্যকর তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
গাইবান্ধার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা চান শুধু নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা।
রফিকুল ইসলামের ভাষায়, ‘আমরা বিলাসিতা চাই না, শুধু স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে সমাজের বড় অংশকে আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে।

























