ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পৃথিবী বস্তুকে নিজের কেন্দ্রে টানে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দেখা তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড চাইল পুলিশ দূষণযুক্ত যান নিষিদ্ধ করার ফলে দিল্লিতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আদালত অবমাননার অভিযোগ, আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুর ও সাভারে অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি এআই-স্মার্ট স্পিকার কি সবই শোনে? উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি তাহসিফের, নিশ্চিত করল পিবিআই পম্পেইয়ের আলমারিতে সুগন্ধির শিশি ও শিশুর গলার হার শিক্ষার্থীরা রাতে ঘরের বাইরে আড্ডা দিলে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ: চট্টগ্রামের ডিআইজি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর জার্মানির একাধিক শহরে সহিংসতা

বর্ষা আসার আগেই বেড়ায় নৌকা তৈরি ও মেরামতের ধুম

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে এখনো কিছু দিন বাকি। তবে পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে এখনই শুরু হয়েছে নতুন নৌকা কেনা, তৈরি এবং পুরোনো নৌকা মেরামতের ধুম।

উপজেলার ডাকবাংলো ঘাট, মোহনগঞ্জ, মালদাহপাড়া, পেঁচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, মাছখালি, রাকসা ও নাটিয়াবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন হাতুড়ি-বাটালির শব্দে মুখরিত।

বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা—এই তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল চরাঞ্চল। এসব চরের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যমুনা নদীর সঙ্গে। বছরের অধিকাংশ সময় কৃষিকাজ ও মাছ শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

চরাঞ্চল থেকে উৎপাদিত ফসল হাটে নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন এবং যাতায়াতের জন্য নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। ফলে সারা বছরই ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের নৌকার প্রয়োজন হয় এই জনপদে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের বাসিন্দারা স্থানীয় হাটগুলো থেকে ডিঙি নৌকা কেনার পাশাপাশি মিস্ত্রি দিয়ে বড় সাইজের নতুন নৌকা তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। আবার যাদের পুরোনো নৌকা আছে, তারা সেগুলো মেরামত ও আলকাতরা দিয়ে বর্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন।

চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, চরাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বরাবরই কষ্টসাধ্য। শুধু বর্ষাকালে নয়, সারা বছরই ছোট-বড় নৌকা তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই বর্ষার পানি আসার আগেই নৌকা কেনা বা মেরামতের হিড়িক পড়ে যায়।

নৌকার বাজারদর সম্পর্কে চর নাকালিয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বলেন, বর্ষাকালে মাছ ধরা ও এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনেকে ১২ থেকে ১৩ হাতের ছোট ডিঙি নৌকা কেনেন। এসব নৌকার দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে বড় নৌকা তৈরির খরচ অনেক বেশি।

তিনি জানান, ৩০ থেকে ৪০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি বড় নৌকা তৈরি করতে বর্তমানে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এই বড় নৌকাগুলো সাধারণত শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে পণ্য পরিবহন, হাট-বাজারে মালামাল আনা-নেওয়া এবং যাত্রী পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বর্ষা আসবে, আর সেই জলরাশি মোকাবিলা করতে বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বর্ষা আসার আগেই বেড়ায় নৌকা তৈরি ও মেরামতের ধুম

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে এখনো কিছু দিন বাকি। তবে পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে এখনই শুরু হয়েছে নতুন নৌকা কেনা, তৈরি এবং পুরোনো নৌকা মেরামতের ধুম।

উপজেলার ডাকবাংলো ঘাট, মোহনগঞ্জ, মালদাহপাড়া, পেঁচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, মাছখালি, রাকসা ও নাটিয়াবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন হাতুড়ি-বাটালির শব্দে মুখরিত।

বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা—এই তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল চরাঞ্চল। এসব চরের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যমুনা নদীর সঙ্গে। বছরের অধিকাংশ সময় কৃষিকাজ ও মাছ শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

চরাঞ্চল থেকে উৎপাদিত ফসল হাটে নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন এবং যাতায়াতের জন্য নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। ফলে সারা বছরই ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের নৌকার প্রয়োজন হয় এই জনপদে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের বাসিন্দারা স্থানীয় হাটগুলো থেকে ডিঙি নৌকা কেনার পাশাপাশি মিস্ত্রি দিয়ে বড় সাইজের নতুন নৌকা তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। আবার যাদের পুরোনো নৌকা আছে, তারা সেগুলো মেরামত ও আলকাতরা দিয়ে বর্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন।

চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, চরাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বরাবরই কষ্টসাধ্য। শুধু বর্ষাকালে নয়, সারা বছরই ছোট-বড় নৌকা তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই বর্ষার পানি আসার আগেই নৌকা কেনা বা মেরামতের হিড়িক পড়ে যায়।

নৌকার বাজারদর সম্পর্কে চর নাকালিয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বলেন, বর্ষাকালে মাছ ধরা ও এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনেকে ১২ থেকে ১৩ হাতের ছোট ডিঙি নৌকা কেনেন। এসব নৌকার দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে বড় নৌকা তৈরির খরচ অনেক বেশি।

তিনি জানান, ৩০ থেকে ৪০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি বড় নৌকা তৈরি করতে বর্তমানে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এই বড় নৌকাগুলো সাধারণত শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে পণ্য পরিবহন, হাট-বাজারে মালামাল আনা-নেওয়া এবং যাত্রী পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বর্ষা আসবে, আর সেই জলরাশি মোকাবিলা করতে বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।