অসময়ে পদ্মায় ভাঙন, ঝুঁকিতে কৃষিজমি ও বসতভিটা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সীবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ে শুরু হওয়া এই নদী ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, আর ঝুঁকিতে রয়েছে বহু বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে বছরের পর বছর ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক এলাকা মানচিত্র থেকেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীর তীরবর্তী আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহ এবং কয়েকশ বসতবাড়ি। এতে করে পুরো এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ভাঙনের অগ্রগতি দেখছেন, আবার কেউ উদ্বেগ নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার ছাপ। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ করে তাদের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে বহুল আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের কথা থাকলেও প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙন সমস্যা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সর্দার ও কুদ্দুস সর্দার বলেন, এক সময় তাদের বাবার প্রায় ১০০ বিঘা জমি ছিল। নদী ভাঙনে ধীরে ধীরে সব জমি বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ছয় ভাইয়ের মধ্যে ভাগ হয়ে মাত্র ছয় বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এই সামান্য জমিতেই তাদের সংসার চলে। এখন সেটুকুও নদীগর্ভে চলে গেলে তারা একেবারে পথে বসবেন বলে আশঙ্কা করছেন।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সর্দার ও লোকমান সর্দার জানান, গত কয়েকদিনে কাউয়ালজানি ও মুন্সীবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ধানের জমিসহ পেঁয়াজ ও অন্যান্য ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং আরও অনেক জমি হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে চলে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, অসময়ের এই নদী ভাঙনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।

























