ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, কী নির্দেশ দিলেন নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান, বসানো হলো গাছের চারা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, ভাঙচুর বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত ছেলে বেঁচে নেই, এইচএসসির ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা দেশের আর্থিক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি হ্যালোউইনে মা শ্রীদেবীর আইকনিক ‘নাগিনা’ লুকে হইচই ফেলে দিয়েছেন জাহ্নবী সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২৯ ও ৩০ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ঢাকা আইনজীবী সমিতি-র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। আইনজীবীদের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে সাধারণত দুটি দলের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো—একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং অন্যটি বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। তবে এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। ভোটাররা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট গণনাও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনে জামায়াত সমর্থিত সদস্য কম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা বারের সংবিধান অনুযায়ী ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। তবে কোন দল থেকে কতজন সদস্য থাকবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। বর্তমানে জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনজন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যদি কোনো পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা মোকাবিলা করবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো গোয়েন্দা বা প্রতিরক্ষা বাহিনী নেই। তাই সাংবাদিকদের কাছ থেকেও আগাম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমানে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে প্রায় ৩৭ হাজার সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিসুর রহমান। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য খন্দকার মো. ফেরদাউস, মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, রায়হান মোর্শেদ, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. ওয়ালিউল ইসলাম (তুষার), মো. আফানুর রহমান (রুবেল), মো. আ. মালেক ও মো. জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জাকারিয়া হায়দার ও মুহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সম্পাদকীয় ও কার্যকরী সদস্যসহ মোট ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল ও জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবুল কালাম খান। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক।

এছাড়া সভাপতি পদে মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও বলাই চন্দ্র দেবসহ মোট ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২৯ ও ৩০ এপ্রিল

আপডেট সময় : ১১:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ঢাকা আইনজীবী সমিতি-র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। আইনজীবীদের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে সাধারণত দুটি দলের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো—একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং অন্যটি বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। তবে এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। ভোটাররা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট গণনাও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনে জামায়াত সমর্থিত সদস্য কম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা বারের সংবিধান অনুযায়ী ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। তবে কোন দল থেকে কতজন সদস্য থাকবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। বর্তমানে জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনজন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যদি কোনো পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা মোকাবিলা করবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো গোয়েন্দা বা প্রতিরক্ষা বাহিনী নেই। তাই সাংবাদিকদের কাছ থেকেও আগাম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমানে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে প্রায় ৩৭ হাজার সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিসুর রহমান। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য খন্দকার মো. ফেরদাউস, মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, রায়হান মোর্শেদ, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. ওয়ালিউল ইসলাম (তুষার), মো. আফানুর রহমান (রুবেল), মো. আ. মালেক ও মো. জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জাকারিয়া হায়দার ও মুহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সম্পাদকীয় ও কার্যকরী সদস্যসহ মোট ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল ও জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবুল কালাম খান। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক।

এছাড়া সভাপতি পদে মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও বলাই চন্দ্র দেবসহ মোট ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।