প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে বৈষম্যের অভিযোগ, গাইবান্ধায় সাংবাদিকদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত ও তরুণ সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ করেছেন একদল তরুণ সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, একই ব্যক্তিরা বারবার প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গাইবান্ধা জেলা সার্কিট হাউস চত্বরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা করছেন এমন কয়েকজন তরুণকে বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী এবং আগে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিক্ষোভকারী সাংবাদিক ও কালবেলার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি সুমন মিয়া বলেন, ‘গাইবান্ধায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত ও তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অথচ সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদেরও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ব্যক্তিদের বারবার সুযোগ না দিয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মরত নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
আরেক বিক্ষোভকারী সাংবাদিক রনি মিয়া বলেন, ‘প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ে কাজের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা উচিত।’
বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমাদ আবীরের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাক্যবিনিময় হয়। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে যেটুকু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমি সেটুকুই করেছি। এ বিষয়ে আরও কিছু জানার থাকলে যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন তথ্য অফিসের মাধ্যমে করা হয়েছে। এটি প্রেস কাউন্সিলের একটি কর্মসূচি। তবে প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাইয়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বাছাই করার কথা নয় বলেও জানান তিনি।
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি বিক্ষোভকারী তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তরুণ সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে যারা আগে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তরুণ সাংবাদিকরা কর্মসূচি স্থগিত করে সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। বিক্ষোভকারী সাংবাদিকরা জানান, জেলা প্রশাসকের দেওয়া আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে তারা আপাতত কর্মসূচি শেষ করেছেন।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধসহ পেশাগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তরুণ সাংবাদিকদের দাবি, এসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অসন্তোষ কমবে। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।




















