যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হন আরও যেসব বিশ্বনেতারা
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ নতুন নয়। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরোকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অভিযানকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাদুরো দম্পতির জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোর এই পরিণতি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ইতিহাসে এর আগে একাধিক বিশ্বনেতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একইভাবে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পানামার সাবেক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। ১৯৮৯ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন সেনারা ঝটিকা অভিযানে তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। একসময় সিআইএর ঘনিষ্ঠ হলেও পরে ওয়াশিংটনের বিরাগভাজন হন নোরিয়েগা।
একই ধরনের ঘটনা ঘটে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ক্ষেত্রেও। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর তাঁকে একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০০৬ সালে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ২০২২ সালে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকেও মাদক পাচারের অভিযোগে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন এজেন্টরা। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করে দেন, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনা ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাবের প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, এটি আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি ‘রাষ্ট্রীয় অপহরণ’ বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের উদাহরণ। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, বিশ্বজুড়ে মাদক সম্রাটদের বিচারের আওতায় আনতেই এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।

























