ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় নারীকে পথরোধ করে টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ২ বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবাদী জমি দখলের অভিযোগ প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা গনি হত্যার ১৫ বছর, বিচারহীনতায় কাটছে দিন বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ২০ বসতঘর ছাই অনলাইন পোর্টালের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা, কথিত সাংবাদিকসহ গ্রেফতার ৫ সুনামগঞ্জে দুইদিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার রচিত ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন সুন্দরগঞ্জে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা গনি হত্যার ১৫ বছর, বিচারহীনতায় কাটছে দিন

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০১১ সালে প্রকাশ্যে খুন হওয়া দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি আবদুল গনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দেড় যুগেও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিহতের সম্পদ দখল ও পরিবারকে লাগাতার হুমকির অভিযোগও উঠেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৪ মে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দিনের আলোতে আবদুল গনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও আজ অবধি বিচারিক কার্যক্রমের আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। পরিবারের দাবি, জমা দেওয়া চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিহত গনির স্ত্রী মেহেরা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী হত্যার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে চার সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। আমার স্বামী বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৬ বছর দলের অনেকেই খোঁজ নেয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধিকাংশ আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ ও পাতাছড়া এলাকায় থাকা তাদের কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বাধা দিতে গিয়ে তিনি ও তার সন্তানরা একাধিকবার হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন।

নিহতের ছেলে মো. শাহীন বলেন, ১৬ বছরেও পিতা হত্যার বিচার পাইনি, উল্টো বাবার কষ্টার্জিত সম্পদ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তরুণ কিশোর দেব জানান, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মাঝখানে কিছুদিন সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যাহত হওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছিল। বাদীপক্ষ চাইলে মামলাটি পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ রয়েছে।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র দে বলেন, এটি অনেক পুরোনো ঘটনা। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা জামিনে থাকলে পুলিশের কিছু করার থাকে না, আইনি প্রতিকারের বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিচারের আশা জাগলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় হতাশ নিহতের পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা গনি হত্যার ১৫ বছর, বিচারহীনতায় কাটছে দিন

আপডেট সময় : ১২:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০১১ সালে প্রকাশ্যে খুন হওয়া দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি আবদুল গনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দেড় যুগেও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিহতের সম্পদ দখল ও পরিবারকে লাগাতার হুমকির অভিযোগও উঠেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৪ মে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দিনের আলোতে আবদুল গনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও আজ অবধি বিচারিক কার্যক্রমের আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। পরিবারের দাবি, জমা দেওয়া চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিহত গনির স্ত্রী মেহেরা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী হত্যার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে চার সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। আমার স্বামী বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৬ বছর দলের অনেকেই খোঁজ নেয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধিকাংশ আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ ও পাতাছড়া এলাকায় থাকা তাদের কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বাধা দিতে গিয়ে তিনি ও তার সন্তানরা একাধিকবার হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন।

নিহতের ছেলে মো. শাহীন বলেন, ১৬ বছরেও পিতা হত্যার বিচার পাইনি, উল্টো বাবার কষ্টার্জিত সম্পদ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তরুণ কিশোর দেব জানান, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মাঝখানে কিছুদিন সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যাহত হওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছিল। বাদীপক্ষ চাইলে মামলাটি পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ রয়েছে।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র দে বলেন, এটি অনেক পুরোনো ঘটনা। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা জামিনে থাকলে পুলিশের কিছু করার থাকে না, আইনি প্রতিকারের বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিচারের আশা জাগলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় হতাশ নিহতের পরিবার।