ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও সভাপতির ছেলে এইচএসসি পাসের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা সাংবাদিক আলিফ হত্যায় অংশ নেন পাঁচজন, গুলি করেন তাজুল ‘আলোর পথে ফিরতে’ আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা, ২৯ জন আটক রামলীলায় লাখো জনতার সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের বার্তা, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্যালাক্সি এস২৬ এফই মডেলের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির

হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো চাষে নতুন আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূপ্রকৃতিগত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় দেশের হাওরাঞ্চল প্রতি বছর আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান হলেও আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা ও ঠান্ডাজনিত চাপ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আগাম ও আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।

এ সমস্যা উত্তরণে হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষই হতে পারে কার্যকর সমাধান, যা বন্যা আসার আগেই কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক। ২০২০ সাল থেকে তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। সহযোগী গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।

অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ শতাংশ। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই আগাম বন্যায় ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের পরিবর্তে যদি স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ধান কাটা সম্ভব হবে। এতে আগাম বন্যার ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৩৬ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হাওরে সবচেয়ে বেশি আকস্মিক বন্যা হয় মে মাসে। এপ্রিলের শেষ ভাগেও এর প্রভাব থাকে। তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগেই ধান কাটতে পারলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্রি ধান ৯২ জাতের ধান পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১৬০ দিন। ফলে এটি কাটা যায় বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে, যখনই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ১০১, ব্রি ধান ১১৩, ব্রি ধান ১০৫ ও ব্রি ধান ২৫-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত প্রায় ১৪৫ দিনে পরিপক্ক হয়। এতে ১৫ দিন আগেই ফসল কাটা সম্ভব।

অধ্যাপক প্রামাণিক আরও বলেন, আগাম বন্যা এড়াতে হলে ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ শেষ করতে হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ধান এপ্রিলের প্রথমার্ধেই কেটে সফলতা পাওয়া গেছে।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, হাওরে দ্রুত সময়ে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি। এতে একই সময়ে ফসল রোপণ ও সংগ্রহ দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং ক্ষতি কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো চাষে নতুন আশা

আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ভূপ্রকৃতিগত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় দেশের হাওরাঞ্চল প্রতি বছর আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান হলেও আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা ও ঠান্ডাজনিত চাপ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আগাম ও আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।

এ সমস্যা উত্তরণে হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষই হতে পারে কার্যকর সমাধান, যা বন্যা আসার আগেই কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক। ২০২০ সাল থেকে তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। সহযোগী গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।

অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ শতাংশ। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই আগাম বন্যায় ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের পরিবর্তে যদি স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ধান কাটা সম্ভব হবে। এতে আগাম বন্যার ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৩৬ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হাওরে সবচেয়ে বেশি আকস্মিক বন্যা হয় মে মাসে। এপ্রিলের শেষ ভাগেও এর প্রভাব থাকে। তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগেই ধান কাটতে পারলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্রি ধান ৯২ জাতের ধান পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১৬০ দিন। ফলে এটি কাটা যায় বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে, যখনই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ১০১, ব্রি ধান ১১৩, ব্রি ধান ১০৫ ও ব্রি ধান ২৫-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত প্রায় ১৪৫ দিনে পরিপক্ক হয়। এতে ১৫ দিন আগেই ফসল কাটা সম্ভব।

অধ্যাপক প্রামাণিক আরও বলেন, আগাম বন্যা এড়াতে হলে ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ শেষ করতে হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ধান এপ্রিলের প্রথমার্ধেই কেটে সফলতা পাওয়া গেছে।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, হাওরে দ্রুত সময়ে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি। এতে একই সময়ে ফসল রোপণ ও সংগ্রহ দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং ক্ষতি কমবে।