ছেলে বেঁচে নেই, এইচএসসির ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মিনহাজুল ইসলাম রোজান এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার ফল দেখার সুযোগ হলে না তার। ঐচ্ছিক বিষয় অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই শিক্ষার্থীর। শনিবার ছেলের পরীক্ষার ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।
শনিবার এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, জীববিজ্ঞান বাদে অন্যান্য বিষয়গুলোতে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ পেয়েছে মিনহাজুল ইসলাম রোজান। তবে জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শুধু এই বিষয়টিতে অকৃতকার্য দেখাচ্ছে।
রোজান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল। গত ১২ আগস্ট এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর হাসপাতালে টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল রোজান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
.
ছেলের ফল প্রকাশের দিনে তাই আনন্দের বদলে শোকের স্মৃতিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাবা সাজ্জাদুল মিরাজের মন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ছেলের ফলাফল বের হয়েছে। আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে ও দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা দিতে পারলে ওর ফলাফল আরও ভালো হতো।’
স্কুলের এক শিক্ষক রোজানের ফলাফলের কাগজ পাঠিয়েছেন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজকে। ফল দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। প্রথম আলোকে বলেন, চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে তার ফল জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ হয়েছে। জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে এ প্লাস পেলে তার চূড়ান্ত ফলাফল হতো জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩।
.
ছেলের অসুস্থতা ও মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়েও আক্ষেপ রয়েছে মা–বাবার। বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ ও মা ফাহমিদা আক্তার জানান, পরীক্ষার চাপের পাশাপাশি ছেলের ডায়াবেটিস ছিল, তা তাঁরা জানতেন না।
পরিবারের ভাষ্য, ৬ আগস্ট অসুস্থ হওয়ার পর রোজানকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা কেউ বলেছিলেন, সে পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করেছে; কেউ বলেছিলেন, প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। আবার কেউ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তখন ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি। স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল।
.
১৩ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রোজানের রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছায়। সেদিনই প্রথম ছেলের ডায়াবেটিসের কথা জানতে পারেন মা–বাবা।
রোজানের পরিবার জানিয়েছে, সে শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বেও ছিল এগিয়ে। অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছে। অমায়িক ব্যবহারের কারণে শিক্ষকদের আস্থা ও সহপাঠীদের ভালোবাসা পেয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সঙ্গে।
.এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের মৃত্যু, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জানতেন না মা–বাবা, হাসপাতালও পরীক্ষা করায়নি
















