মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে।
আখতারুজ্জামানের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ সোমবার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে আখতারুজ্জামানের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
.
ওই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আখতারুজ্জামান। এর শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার হাইকোর্ট রুলসহ আখতারুজ্জামানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানিতে ছিলেন। আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
.
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ১ অক্টোবর রাতে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আখতারুজ্জামান।
আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন আখতারুজ্জামান। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।
.
আখতারুজ্জামান একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে টক শো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে আলোচনায় ছিলেন তিনি। এমন অবস্থার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান।
























