ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি বিরোধে চাচাকে হত্যা, প্রধান আসামিসহ চারজন গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা আদা চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে র‌্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ও র‌্যাব-১২ বগুড়ার যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতাররা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার দশলিয়া বেহারাপাড়া (রায়পাড়া) গ্রামের মামলার প্রধান আসামি নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস (২৮) ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাস (২১) এবং নিপেন দাসের স্ত্রী শংকরী রানী (৫১)।

র‌্যাব জানায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে নিহত আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন দাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৩ জুলাই বিরোধপূর্ণ জায়গায় নিপেন দাস টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন ৪ জুলাই সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় টয়লেট নির্মাণ না করতে নিপেন দাসকে অনুরোধ করা হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য, একই দিন দুপুরে আদা চন্দ্র দাস বাড়ির সামনে ছাগল চরাতে গেলে নিপেন দাস, তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ ও সত্য দাসসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

আদা চন্দ্র দাসের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪ জুলাই সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৩। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ও র‌্যাব-১২ বগুড়ার যৌথ দল বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জমি বিরোধে চাচাকে হত্যা, প্রধান আসামিসহ চারজন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা আদা চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে র‌্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ও র‌্যাব-১২ বগুড়ার যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতাররা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার দশলিয়া বেহারাপাড়া (রায়পাড়া) গ্রামের মামলার প্রধান আসামি নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস (২৮) ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাস (২১) এবং নিপেন দাসের স্ত্রী শংকরী রানী (৫১)।

র‌্যাব জানায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে নিহত আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন দাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৩ জুলাই বিরোধপূর্ণ জায়গায় নিপেন দাস টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন ৪ জুলাই সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় টয়লেট নির্মাণ না করতে নিপেন দাসকে অনুরোধ করা হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য, একই দিন দুপুরে আদা চন্দ্র দাস বাড়ির সামনে ছাগল চরাতে গেলে নিপেন দাস, তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ ও সত্য দাসসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

আদা চন্দ্র দাসের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪ জুলাই সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৩। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ও র‌্যাব-১২ বগুড়ার যৌথ দল বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।