গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, বিভিন্ন স্থানে ভাঙন
- আপডেট সময় : ০৪:২০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

উজানের ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
রোববার (২১ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৬টা, সকাল ৯টা ও দুপুর ১২টার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সকাল ৬টায় ছিল ১৬ দশমিক ৮৯ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে ১৬ দশমিক ৯০ মিটার এবং দুপুর ১২টায় ১৬ দশমিক ৯১ মিটারে পৌঁছেছে। নদীটির পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২ মিটার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নিউব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি সকাল ৬টায় ১৮ দশমিক ৭৮ মিটার থেকে সকাল ৯টায় ১৮ দশমিক ৭৯ মিটারে উন্নীত হয়। দুপুর ১২টায়ও একই অবস্থানে স্থির ছিল। নদীটির পানি বিপৎসীমার ২ মিটার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ১৬ দশমিক ১৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩ মিটার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত কয়েকদিন ধরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সকাল ৬টায় ২৯ দশমিক ০৫ মিটার, সকাল ৯টায় ২৯ দশমিক ০৩ মিটার এবং দুপুর ১২টায় ২৯ দশমিক ০০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা ও ভোরের পাখি গ্রামে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শত শত পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে এলাকাটি পরিদর্শন করেছিলেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। সে সময় ভাঙনরোধে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বর্তমানে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি। তবে উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘জেলার সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানের ঢল ও পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। নদীতীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা নেই।’
























