ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর কক্সবাজারে নলকূপ খননে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, যা জানাল পেট্রোবাংলা বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য ঘর হারিয়েও গল্প বলা থামেনি তাঁদের গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের ঝাঁজ ছড়াচ্ছে চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরে উৎপাদিত বিশেষ জাতের ‘বোম্বাই মরিচ’ এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও সমাদৃত। স্থানীয়ভাবে ঘৃত্তকুমারী জাতের এ মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ঝাঁজ ও সুগন্ধের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে মরিচ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে এর আবাদ দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রথমদিকে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে মরিচের চাষ হতো। তবে লাভজনক হওয়ায় এখন অনেক কৃষকই বাণিজ্যিকভাবে চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক আল আমিন ও বাবু হালদার জানান, একটি গাছ টানা সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফল দেয়। প্রতিটি গাছে ৪০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত মরিচ ধরে। মৌসুম ও বাজারভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অল্প জায়গায় বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

ব্যবসায়ী জিয়ারুল বলেন, ‘২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত বিদেশে মরিচ যাচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির বিশেষ গুণাগুণের কারণে এখানকার বোম্বাই মরিচের স্বাদ, ঝাঁজ ও ঘ্রাণ অন্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে অর্জিত হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘বোম্বাই মরিচ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের ঝাঁজ ছড়াচ্ছে চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে

আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পিরোজপুরে উৎপাদিত বিশেষ জাতের ‘বোম্বাই মরিচ’ এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও সমাদৃত। স্থানীয়ভাবে ঘৃত্তকুমারী জাতের এ মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ঝাঁজ ও সুগন্ধের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে মরিচ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে এর আবাদ দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রথমদিকে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে মরিচের চাষ হতো। তবে লাভজনক হওয়ায় এখন অনেক কৃষকই বাণিজ্যিকভাবে চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক আল আমিন ও বাবু হালদার জানান, একটি গাছ টানা সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফল দেয়। প্রতিটি গাছে ৪০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত মরিচ ধরে। মৌসুম ও বাজারভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অল্প জায়গায় বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

ব্যবসায়ী জিয়ারুল বলেন, ‘২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত বিদেশে মরিচ যাচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির বিশেষ গুণাগুণের কারণে এখানকার বোম্বাই মরিচের স্বাদ, ঝাঁজ ও ঘ্রাণ অন্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে অর্জিত হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘বোম্বাই মরিচ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’