ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় নারীকে পথরোধ করে টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ২ বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবাদী জমি দখলের অভিযোগ প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা গনি হত্যার ১৫ বছর, বিচারহীনতায় কাটছে দিন বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ২০ বসতঘর ছাই অনলাইন পোর্টালের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা, কথিত সাংবাদিকসহ গ্রেফতার ৫ সুনামগঞ্জে দুইদিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার রচিত ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন সুন্দরগঞ্জে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু

নার্স সিন্ডিকেটে জিম্মি পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স ও মিডওয়াইফদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাতৃসেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডেলিভারি রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং কমিশনভিত্তিক অর্থ লেনদেনের নানা তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ মিলে একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলে হাসপাতালের ডেলিভারি সেবা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা রোগীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান এবং এর বিপরীতে কমিশন গ্রহণ করেন।

রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গর্ভবতী নারীদের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ফি নিয়ে চেকআপ করা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং পরবর্তীতে ডেলিভারির সময় বিভিন্ন অজুহাতে বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার করার ঘটনাও সামনে এসেছে। হাসপাতালের বাইরেও পৃথক স্থানে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

একাধিক ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে রোগীদের একই ধরণের প্রক্রিয়ায় ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছে। এতে রোগীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে শত শত গর্ভবতী নারী চেকআপে এলেও খুব কম সংখ্যক ডেলিভারি হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রোগীদের বড় একটি অংশকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো নার্স বা মিডওয়াইফ স্বতন্ত্রভাবে প্রেসক্রিপশন লিখতে বা ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করতে পারেন না। এসব কার্যক্রম আইনবহির্ভূত এবং পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থী। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু তৈয়ব অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, একটি সিন্ডিকেটের কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বাস্থ্যসেবায় আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নার্স সিন্ডিকেটে জিম্মি পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স ও মিডওয়াইফদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাতৃসেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডেলিভারি রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং কমিশনভিত্তিক অর্থ লেনদেনের নানা তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ মিলে একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলে হাসপাতালের ডেলিভারি সেবা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা রোগীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান এবং এর বিপরীতে কমিশন গ্রহণ করেন।

রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গর্ভবতী নারীদের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ফি নিয়ে চেকআপ করা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং পরবর্তীতে ডেলিভারির সময় বিভিন্ন অজুহাতে বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার করার ঘটনাও সামনে এসেছে। হাসপাতালের বাইরেও পৃথক স্থানে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

একাধিক ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে রোগীদের একই ধরণের প্রক্রিয়ায় ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছে। এতে রোগীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে শত শত গর্ভবতী নারী চেকআপে এলেও খুব কম সংখ্যক ডেলিভারি হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রোগীদের বড় একটি অংশকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো নার্স বা মিডওয়াইফ স্বতন্ত্রভাবে প্রেসক্রিপশন লিখতে বা ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করতে পারেন না। এসব কার্যক্রম আইনবহির্ভূত এবং পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থী। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু তৈয়ব অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, একটি সিন্ডিকেটের কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বাস্থ্যসেবায় আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।